জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর এবার আরও বড় পরিসরে সেনা সংখ্যা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় শনিবার (৫ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা সেনাসংখ্যা অনেক কমিয়ে আনব। এই সংখ্যা ৫ হাজারের চেয়েও অনেক বেশি হবে।” তার এই মন্তব্যে ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জার্মানি বর্তমানে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অবস্থান অনুযায়ী এই উপস্থিতি ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির দুই শীর্ষ কংগ্রেস নেতা। সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার এবং হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক রজার্স এ সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহার না করে বরং পূর্ব ইউরোপে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা উচিত।
ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে ইরান যুদ্ধ, শুল্কনীতি এবং ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে টানাপোড়েন চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণে পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
এর আগে জার্মানির পাশাপাশি ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিষয়টি ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস মন্তব্য করেছিলেন, “ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অপদস্থ হচ্ছে।” ওই মন্তব্যের পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেনা কমানোর সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনায় আসে।
সূত্র: রয়টার্স
সিএ/এএ


