ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন হলো সেই মুহূর্ত, যেদিন মহানবী মুহাম্মাদ (সা.) প্রথমবার নবুয়ত লাভ করেন। এই ঘটনা শুধু তাঁর জীবন নয়, সমগ্র মানবজাতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
ঘটনার শুরু হয় মক্কার নিকটবর্তী নুর পর্বতের হেরা গুহায়। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, হানাহানি ও প্রতিমাপূজার পরিবেশে ব্যথিত হয়ে তিনি নির্জনে ধ্যানমগ্ন জীবন বেছে নেন। সেই নির্জন গুহাতেই একদিন তিনি অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন।
ধ্যানমগ্ন অবস্থায় হঠাৎ এক অচেনা সত্তার উপস্থিতি অনুভব করেন তিনি। সেই সত্তা তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, পড়ুন। উত্তরে তিনি জানান, আমি পড়তে জানি না। এরপর তাঁকে জড়িয়ে ধরে আবারও একই নির্দেশ দেওয়া হয়।
তৃতীয়বার একই ঘটনার পর সেই সত্তা নিজেই পাঠ করতে থাকেন, পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন; আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু, যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন; শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে, যা সে জানত না। (সুরা আলাক, আয়াত: ১-৫)
এই অভিজ্ঞতার পর তিনি ঘরে ফিরে আসেন ভীত ও কম্পিত অবস্থায় এবং তাঁর স্ত্রী খাদিজা (রা.)-কে ঘটনাটি জানান। খাদিজা (রা.) তাঁকে সান্ত্বনা দেন এবং তাঁর সততা ও মানবিক গুণাবলির কথা উল্লেখ করে আশ্বস্ত করেন।
পরবর্তীতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ওয়ারাকা ইবনে নওফেলের কাছে, যিনি ঘটনাটি শুনে এটিকে নবুয়তের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং পূর্ববর্তী নবীদের সঙ্গে এর মিল খুঁজে পান।
এই ঘটনাই ইসলামের নবুয়তের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা পরবর্তীতে মানবজাতির জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কোরআনের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়।
সিএ/এমআর


