চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) বাংলা বিভাগের আয়োজনে ‘সাহিত্যিক অশোক বড়ুয়া পঞ্চম স্মারক বক্তৃতা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন-এর সম্মেলন কক্ষে এ স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলা বিজ্ঞানসাহিত্যের নন্দিত ভুবন’ বিষয়ে স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন সুব্রত বড়ুয়া, যিনি বাংলা একাডেমি-এর সাবেক পরিচালক। লিখিত বক্তব্যে তিনি বাংলা সাহিত্যে বিজ্ঞান সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অশোক বড়ুয়ার কনিষ্ঠ পুত্র, সাবেক সচিব ও লেখক সম্পদ বড়ুয়া।
বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, “আমাদের বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গড়ে তুলতে হবে। বিজ্ঞান যত বেশি সহজবোধ্য ও জনপ্রিয় হবে, সমাজ তত বেশি যুক্তিনির্ভর ও কুসংস্কারমুক্ত হবে।” তিনি আরও বলেন, “বিজ্ঞান ও সাহিত্যকে একত্রে চর্চা করলে সাহিত্য সমৃদ্ধ হবে এবং বিজ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে সহজ হয়ে উঠবে।”
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, “এ ধরনের আয়োজন সমাজকে আলোকিত করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবন কল্পনা করা যায় না। তাই বাংলা সাহিত্যেও বিজ্ঞানভিত্তিক কাজ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।”
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ বলেন, “যারা মনে করেন বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা সম্ভব নয়, তারা হয় বাংলা জানেন না, নয়তো বিজ্ঞান বোঝেন না। ভাষা, পরিভাষা ও শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।”
উল্লেখ্য, অশোক বড়ুয়া ১৯২১ সালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। গল্প, নাটক, প্রবন্ধ ও গীতিকবিতাসহ বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে মানস কবি, অকাল বসন্ত, উপনায়িকা, সাপুড়ে ও লৌহকপাট। ১৯৭০ সালে ৪৯ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
চবির বাংলা বিভাগের উদ্যোগে ২০১৮ সাল থেকে এ স্মারক বক্তৃতা নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে। এবারের আয়োজন ছিল পঞ্চম।
চবি প্রতিনিধি
সিএ/এমআর


