গাজা, সুদান এবং বাংলাদেশে পরিচালিত মানবিক কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ। সংস্থাটি তাদের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং দানের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে তার তথ্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে।
২০২৩-২০২৫ অর্থবছরের অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মানুষের দানের অর্থের স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তারা গাজা ও সুদানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তাদের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগ নয়, বরং সম্পূর্ণ মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে পরিচালিত কার্যক্রম।
গাজায় সংস্থাটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে এবং তা এখনও চলমান রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কাজের পাশাপাশি ভিডিও ডকুমেন্টেশন তাদের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভিডিওতে সরাসরি তারিখ, স্থান, উপকারভোগীর সংখ্যা এবং সহায়তার ধরন তুলে ধরা হয়, যা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের সব কার্যক্রম বৈধ কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। প্রতিটি লেনদেনের কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংবাদমাধ্যমের কাছেও সরবরাহ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের রমজানে সংস্থাটি গাজায় ৪৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯৩৭ টাকা এবং বাংলাদেশে ৩০ লাখ টাকার বেশি সহায়তা প্রদান করেছে। খাদ্য ও ইফতার সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কাউন্সিলের মহাসচিব ডক্টর হানি ইবরাহিম এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জামিলা ইসমাইল সংস্থাটির কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও সংস্থাটির কার্যক্রম প্রচারিত হয়েছে। আল জাজিরা, ফিলিস্তিন টেলিভিশন ও বিবিসিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া সংস্থাটি এজিপশিয়ান ইউথ কাউন্সিলের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, যা আন্তর্জাতিক কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত করেছে।
দেশের ভেতরে সংস্থাটি শিক্ষা, চিকিৎসা, ওষুধ বিতরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের সহায়তায় কাজ করছে। প্রতিবন্ধী ও নির্যাতিত নারীদের জন্য সেফ হোম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


