বর্তমানের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ যেন দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ছোট-বড় নানা চাপ একসঙ্গে জমে গিয়ে অনেকের মধ্যে অস্থিরতা, উদ্বেগ এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
স্বল্পমেয়াদি চাপ কখনো কখনো কাজে সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এটি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাংজাইটি শুধু মানসিক দুর্বলতার বিষয় নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের একটি জটিল শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। উদ্বেগের সময় মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা, লুকাস কোয়েরুলিয়াস এবং প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স সক্রিয় হয়ে ওঠে।
অ্যামিগডালা ভয় ও বিপদের সংকেত শনাক্ত করে। উদ্বেগের সময় এটি অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে, ফলে বাস্তবে বিপদ না থাকলেও শরীর বিপদের অনুভূতি পায় এবং ফাইট অর ফ্লাইট প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
অন্যদিকে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স, যা চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজে সহায়তা করে, তার কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে যুক্তির পরিবর্তে আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এই পরিবর্তনের ফলে শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়, যেমন বুক ধড়ফড় করা, ঘাম হওয়া, হাত কাঁপা, মনোযোগে ঘাটতি এবং ঘুমের সমস্যা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাংজাইটি আসলে শরীরের একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া। বিপদের সম্ভাবনা অনুভব করলে শরীর নিজেকে প্রস্তুত করে। তাই এটিকে কেবল দুর্বলতা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
অ্যাংজাইটি নিয়ন্ত্রণে শরীরচর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যায়ামের সময় মস্তিষ্ক উদ্বেগের কারণ থেকে মনোযোগ সরিয়ে শরীরের নড়াচড়ায় মন দেয়, ফলে নেতিবাচক চিন্তা কমে।
এছাড়া ব্যায়াম পেশির টান কমায় এবং শরীরকে শিথিল করে। একই সঙ্গে সেরোটোনিন, গাবা ও এন্ডোক্যানাবিনয়েডসের মতো ইতিবাচক রাসায়নিক নিঃসরণ বাড়িয়ে উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।
নিয়মিত শরীরচর্চা প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সকে সক্রিয় করে, যা অ্যামিগডালার অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখে।
গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করা জরুরি নয়। শুরুতে ১০ মিনিটের হালকা ব্যায়ামও উপকারী হতে পারে।
হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার, নাচ কিংবা হাই-ইনটেনসিটি ট্রেনিং অ্যাংজাইটি কমাতে কার্যকর।
তবে যদি উদ্বেগ দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সিএ/এমআর


