প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে গুগল। নিজেদের উন্নত এআই প্রযুক্তি ‘জেমিনাই থ্রি’-এর ওপর ভিত্তি করে নতুন ওপেন সোর্স মডেল সিরিজ ‘জেমা ফোর’ উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই মডেলগুলো স্মার্টফোন থেকে শুরু করে শক্তিশালী কম্পিউটার—সব ধরনের ডিভাইসে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের শেষদিকে ‘জেমিনাই থ্রি প্রো’ চালু করে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি দেখিয়েছিল গুগল। সেই গবেষণা ও প্রযুক্তির ধারাবাহিকতায় এবার ওপেন সোর্স কমিউনিটির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে ‘জেমা ফোর’।
নতুন এই সিরিজে চারটি ভিন্ন সংস্করণ রয়েছে, যেগুলোকে তাদের প্যারামিটার সংখ্যার ভিত্তিতে আলাদা করা হয়েছে। ছোট ডিভাইসের জন্য ২০০ কোটি ও ৪০০ কোটি প্যারামিটারের মডেল থাকছে, আর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যন্ত্রের জন্য রয়েছে ২৬০০ কোটি ‘মিক্সচার অফ এক্সপার্টস’ এবং ৩১০০ কোটি ‘ডেন্স’ মডেল।
প্যারামিটার মূলত এআই মডেলের সেই উপাদান, যা দিয়ে এটি উত্তর তৈরি করে। প্যারামিটার যত বেশি, মডেলের কার্যকারিতা তত উন্নত হয়। তবে এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী হার্ডওয়্যার। গুগল দাবি করেছে, ‘জেমা ফোর’-এ প্রতিটি প্যারামিটারকে আরও দক্ষভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ‘অ্যারেনা এআই’-এর টেক্সট লিডারবোর্ডে তাদের ৩১০০ কোটি ও ২৬০০ কোটি প্যারামিটারের মডেল যথাক্রমে তৃতীয় ও ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে, যা অনেক বড় মডেলকেও পেছনে ফেলেছে।
এই সিরিজের সব মডেলই ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম এবং অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন বা ওসিআরের মতো কাজে ব্যবহারযোগ্য। ছোট সংস্করণগুলো অডিও ইনপুটও বুঝতে পারে। পাশাপাশি, অফলাইন অবস্থায় কোড তৈরি করার সুবিধাও থাকছে, ফলে ইন্টারনেট ছাড়াই কোডিং করা সম্ভব।
গুগল জানিয়েছে, ১৪০টিরও বেশি ভাষায় প্রশিক্ষিত এই মডেলগুলো ‘অ্যাপাচি ২.০’ লাইসেন্সের অধীনে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী মডেল পরিবর্তন ও উন্নয়ন করতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “এ ওপেন সোর্স লাইসেন্স ডেভেলপারদের পূর্ণ স্বাধীনতা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের ভিত্তি তৈরি করে দেবে, যা আপনার ডেটা, অবকাঠামো ও মডেলের ওপর আপনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে।”
ডেভেলপারদের জন্য ‘জেমা ফোর’-এর মডেল ওয়েটস ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সিএ/এমআর


