পঞ্চগড়ে বিদ্যুতের পোলে উঠে তার মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহিন আলম (৩৫) নামের এক লাইনম্যানের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহিন তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি এলাকার জয়নুল হকের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বিকেলে ধাক্কামারা গোলচত্বর সংলগ্ন একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে মেরামতকাজ করছিলেন শাহিন। কাজ চলাকালীন অবস্থায় হঠাৎ লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খুঁটিতে ঝুলে পড়েন এবং ছটফট করতে থাকেন। প্রায় ১৭ মিনিট পর বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে তাকে নিচে নামানো হয়।
পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন।
দুর্ঘটনার প্রতিবাদে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা পঞ্চগড় নেসকো কার্যালয়ের সামনে প্রায় আড়াই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে সন্ধ্যায় নেসকো কার্যালয়ে নিহতের পরিবার, শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে নিহত শাহিনের স্ত্রী সাদিয়া আক্তারকে চাকরি প্রদান, বিদ্যুৎ অফিস থেকে ৪০ হাজার টাকা এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলে রাত ৮টার দিকে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষোভকারীরা।
পঞ্চগড় ইলেক্ট্রিক শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলিফ আল মেহেদি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে শাহিনকে মেরে ফেলা হয়েছে। এর দায় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। এত বড় ভুল কিভাবে হয়?’
নিহতের স্বজন খোকন হাবিব বলেন, ‘আমাদের জামাইকে বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়েছিল কাজের জন্য। তিনি অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কিভাবে লাইনে বিদ্যুৎ চালু করলেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা চাই, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার হোক এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হোক।’
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ‘এ ধরনের মৃত্যু কারো কাম্য নয়। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ ছাড়া নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের বন্দোবস্ত করা হবে।’
সিএ/এএ


