মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রতম কণা থেকে শুরু করে বিশাল গ্রহ-নক্ষত্র পর্যন্ত সবকিছুতেই স্রষ্টার অসীম ক্ষমতা, জ্ঞান এবং পরিকল্পনার নিখুঁত প্রতিফলন দেখা যায়। সৃষ্টির এই বৈচিত্র্য ও শৃঙ্খলা মানুষকে ভাবতে শেখায় এবং অস্তিত্বের গভীরতা উপলব্ধি করতে সহায়তা করে।
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিনরাতের পরিবর্তনে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৯০)। এ আয়াত মানুষের চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে স্রষ্টার পরিচয় অনুধাবনের আহ্বান জানায়।
মহাকাশের বিশালতা সৃষ্টির অন্যতম বিস্ময়। কোটি কোটি গ্যালাক্সি, অসংখ্য সৌরজগৎ এবং গ্রহ-উপগ্রহ একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলমান। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের চলাচলসহ পুরো মহাবিশ্বে এক ধরনের সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা বিদ্যমান। আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সেই সত্তা, যিনি রাতদিন, সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টি করেছেন; সবাই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে।’ (সুরা আম্বিয়া : ৩৩)।
পৃথিবীর প্রকৃতিও সৃষ্টির সৌন্দর্যের আরেক অনন্য দৃষ্টান্ত। পাহাড়, সমুদ্র, মরুভূমি, নদ-নদী এবং বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৈচিত্র্য মানুষের জন্য বিস্ময়ের উৎস। একটি বীজ থেকে বিশাল বৃক্ষের জন্ম, ফুলের রঙের বৈচিত্র্য কিংবা প্রাণীকুলের অস্তিত্ব—সবই স্রষ্টার সৃষ্টিশীলতার নিদর্শন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনিই আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন… নিশ্চয় মোমিনদের জন্য এগুলোতে নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আনআম : ৯৯)।
মানবদেহকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মানুষের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে কাজ করে এবং এর গঠন অত্যন্ত সুসংগঠিত। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।’ (সুরা তীন : ৪)। মানুষের বুদ্ধি, চিন্তাশক্তি ও বিবেক তাকে অন্যান্য সৃষ্টির থেকে আলাদা করে।
এ ছাড়া ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীব, যেমন ব্যাকটেরিয়াও সৃষ্টির বিস্ময়কে নতুনভাবে তুলে ধরে। আধুনিক বিজ্ঞান এসব ক্ষুদ্র জীবের জটিলতা ও গুরুত্ব ক্রমেই উন্মোচন করছে। আল্লাহ বলেন, ‘তবে কি তারা উটের দিকে তাকায় না, কীভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে?…’ (সুরা গাশিয়াহ : ১৭-২০)।
এই সব সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষকে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁর নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিএ/এমআর


