চৈত্রের খরতাপে রাজশাহীর জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি। টানা দুই দিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। তপ্ত রোদে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকেরা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা কাজ করলেই হাঁপিয়ে উঠছেন অনেকে। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
নগরের পঞ্চবটী এলাকায় ইট ভাঙার মেশিনের পাশে কাজ করতে দেখা যায় মো. রেজাউল করিমকে। মাথায় গামছা জড়িয়ে ঘাম ভেজা শরীর নিয়ে তিনি কাজ করছিলেন। কিছুক্ষণ পরপরই হাত দিয়ে ঘাম মুছছিলেন। তিনি বলেন, এখন আর আগের মতো একটানা কাজ করা যায় না। আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা কাজ করলেই শরীর আর সাড়া দেয় না। গরম খুব বেশি।
একই স্থানে কাজ করা আরেক শ্রমিক জাহাঙ্গীরও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, গরম বেশি হলেও কাজ তো বন্ধ রাখা যায় না। জীবিকার তাগিদে কষ্ট সহ্য করেই কাজ করতে হচ্ছে।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রচণ্ড গরমে তাঁদের কাজের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। একটানা কাজ করার বদলে মাঝেমধ্যে বিরতি নিতে হচ্ছে। কেউ পানি খাচ্ছেন, কেউ ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর আবার কাজে ফিরছেন।
শ্রমিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাঝে মাঝে মেশিন বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে হয়। না হলে এই গরমে কাজ করা সম্ভব হয় না।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগের দিন তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকলে সেটিকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। সে হিসেবে রাজশাহীতে টানা দুই দিন ধরেই মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। মাঝখানে কিছুদিন বৃষ্টিপাত হওয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা কমেছিল। তবে গত দুই দিন ধরে আবার তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে এবং এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এই তীব্র গরমে শুধু শ্রমিকেরা নয়, নগরের সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছেন। কাজলা এলাকায় রিকশাচালক সোহেল রানা মাথায় গামছা বেঁধে যাত্রী খুঁজছিলেন। তিনি বলেন, আজ গরম বেশি। মানুষ কম বের হচ্ছে, তাই যাত্রীও কম।
রোদ থেকে বাঁচতে অনেকে ছাতা ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। আলুপট্টি এলাকায় পদ্মা নদীর ধারে গাছতলায় বসে থাকতে দেখা যায় মো. বাতেনকে। তিনি বলেন, একটি কাজে শহরে এসেছিলেন। কিন্তু রোদ এত বেশি যে কোথাও দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছে না। বাতাসও গরম, তাই গাছের নিচে বসে আছেন।
এদিকে তাপপ্রবাহের প্রভাব মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ শংকর কে বিশ্বাস বলেন, উত্তরবঙ্গে গরম এমনিতেই বেশি থাকে। এ বছর গরমে অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। সে কারণে হাসপাতালে একটি হিট স্ট্রোক কর্নার চালু রাখা হয়েছে।
গরমে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, বাইরের ভাজাপোড়া বা খোলা শরবত এড়িয়ে চলতে হবে। ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে, ছাতা ব্যবহার করতে হবে এবং সরাসরি রোদে বেশি সময় থাকা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করার পরামর্শ দেন তিনি। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকারও কথা বলেন।
সিএ/এমই


