সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান ইস্যুতে জাতীয় সংসদে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বুধবার (১ এপ্রিল) স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। বিরোধী দলের অভিযোগ, তাদের মূল দাবির বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা না করে অন্য একটি নোটিশ সামনে আনা হয়েছে, যা সংসদীয় রীতি ও জনগণের রায়ের অবমূল্যায়ন।
অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে বলেন, গত মঙ্গলবার উত্থাপিত তাদের এজেন্ডা ছিল গণভোট এবং এর রায়ের আলোকে সংস্কার প্রস্তাব। তিনি জানান, প্রস্তাব অনুযায়ী গঠিতব্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়টিই মূল নোটিশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার মতে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এবং একটি কার্যকর সংস্কার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের সমানসংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা উচিত।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকার এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে যে উদ্যোগ প্রয়োজন ছিল, তা উপেক্ষিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিকে তিনি ‘সংসদীয় রীতির লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।
স্পিকার জানান, বিরোধী দলের প্রস্তাবটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংসদীয় ইতিহাসে মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার নজির কম থাকলেও বর্তমান অধিবেশনে আলোচনার স্বার্থে তা গ্রহণ করা হয়েছে। তার মতে, সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার সুযোগ সবসময়ই উন্মুক্ত থাকবে।
তবে বিরোধী দল স্পিকারের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়নি। ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, তাদের মূল নোটিশকে পাশ কাটিয়ে ভিন্ন একটি নোটিশ উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জনগণের আকাঙ্ক্ষার অবমূল্যায়ন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে যে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছিল, সেটিই বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা প্রতিকার পাননি। এ কারণেই সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন।
ওয়াকআউট চলাকালে স্পিকার বিরোধী দলকে সংসদে থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট করার অধিকার থাকলেও আলোচনার সুযোগ গ্রহণ করা উচিত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, পরবর্তী সময়ে আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব আলোচনায় আসবে, যেখানে তাদের বক্তব্য রাখার সুযোগ থাকবে।
বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ফ্লোর নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউট একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি মুলতবি প্রস্তাবের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যে বিষয়টি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব, তা মুলতবি প্রস্তাবের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও দাবি করেন, সংসদে যেভাবে মুলতবি প্রস্তাব আলোচিত হয়েছে, তা সংসদীয় রীতির ব্যতিক্রম। তার ভাষায়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিষয়টি আলোচনার সুযোগ দেওয়া হলেও এর নিষ্পত্তির জন্য ভোটাভুটির বিধান নেই। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতার কিছু বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না এবং কিছু তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, একই বিষয়ে বেসরকারি সদস্যদেরও প্রস্তাব আনার সুযোগ রয়েছে, যা সংসদীয় নিয়মের মধ্যে পড়ে। এ নিয়ে সংসদে উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ও বিতর্ক স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
সিএ/এএ


