হোয়াইট হাউস ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতিকে ‘কূটনৈতিক জয়’ বললেও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সামান্য ছাড়ের জন্য এমন সমঝোতা পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদার জন্য দৃষ্টিকটু।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতের তাস কতটা শক্তিশালী তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি, বিশ্বসেরা সেনাবাহিনী, এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা ও সেনা কৌশল মিলিয়ে লড়াইটা আপাতদৃষ্টিতে অসম মনে হলেও, ইরান সীমিত সামর্থ্যকেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছে।
ইরান তাদের জনসংখ্যা এবং সামরিক সীমাবদ্ধতার ওপর নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকারকে চ্যালেঞ্জ করছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে তারা বিশ্ব অর্থনীতি এবং মার্কিন রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর চাপ তৈরি করেছে। ফলে যুদ্ধের এক মাস পেরোতেই লড়াই এখন দর-কষাকষির ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, ইরান আগামী কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরও ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষমতায় শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এ ধরনের সমঝোতা দৃষ্টিকটু। যুদ্ধের আগে প্রণালিতে দিনে গড়ে ১০০টির বেশি ট্যাংকার চলাচল করত; ২০টি ট্যাংকারের অনুমতি আসলে নগণ্য।
যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে, তবে ইরান সম্ভাব্য প্রতিহামলা দিয়ে মার্কিন নৌবাহিনী ও মিত্র দেশগুলোর ওপর আঘাত করতে পারে। স্থলসেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও তুর্কি ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। একইভাবে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখল করলেও, ইরান আত্মসমর্পণ না করে আরও মরিয়া হয়ে প্রতিহামলা করতে পারে।
ইরান ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে উপসাগরীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষতি করেছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুদ্ধের দীর্ঘায়ু ইরানের দর-কষাকষির ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের ধৈর্যের বাঁধ দ্রুত ভেঙে গেলে তিনি হরমুজ প্রণালি বা খারগ দ্বীপ দখলের নির্দেশ দিতে পারেন। তবে এটি সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ নয়; ইরান প্রতিহামলা করে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের বিশ্লেষক ত্রিতা পার্সি বলেন, ট্রাম্প যদি নিয়ন্ত্রণ হারান, তবে যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে সরে আসার পরিবর্তে আক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের হাতে কৌশলগত সুবিধা থাকলেও, তাসগুলো সাবধানে খেলতে হবে; অন্যথায় তা বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সিএ/এমই


