রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমাতে একটি ফিলিং স্টেশন টোকেন পদ্ধতি চালু করেছে। গাড়ির কাগজপত্র যাচাইয়ের পর গ্রাহকদের দেওয়া হচ্ছে টোকেন, আর সেটি দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ে তেল পাচ্ছেন ক্রেতারা। টোকেন ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। ফিলিং স্টেশনটির মালিক ও কর্মচারীরা জানান, এই ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে, ভিড় ও বিশৃঙ্খলাও কমেছে।
কাটাখালী পৌরসভায় অবস্থিত মেসার্স সুহাইল ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ জানায়, মেট্রোপলিটন এলাকার মোটরসাইকেল চালকদের জন্য হলুদ টোকেনে ৫০০ টাকা এবং মেট্রোপলিটনের বাইরের চালকদের জন্য সাদা টোকেনে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। হলুদ টোকেনে তেল নিলে পাম্প থেকে পাঁচ দিন পর আবার তেল পাওয়া যাবে, আর সাদা টোকেন দেখিয়ে দুই দিন পর তেল নেওয়া সম্ভব। প্রতিটি টোকেনে তেল দেওয়ার তারিখ উল্লেখ করা হয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে পাম্পের সামনে দুটি সারিতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পাম্পের কর্মীরা প্রথমে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করছেন। এরপর রেজিস্ট্রেশন নম্বর নথিভুক্ত করে টোকেন দেওয়া হচ্ছে।
পাম্পের মালিক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা আগের তুলনায় বেশি তেল সরবরাহ পাচ্ছি। বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল এসে একাধিকবার তেল নিয়ে মজুত করছিল। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছিল। যাতে কেউ অতিরিক্ত তেল নিতে না পারে, তাই কার্ড বা টোকেন ব্যবস্থা চালু করেছি।’
টোকেন পদ্ধতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পাম্পে তেল নিতে আসা গ্রাহকরা। আবু হাসেম বলেন, ‘এই সংকটের মধ্যে এমন ব্যবস্থাপনায় ভালো লাগছে। লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তভাবে তেল নিতে পারছি, কোনো সিন্ডিকেট নেই।’
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগে এখানে ৩৫০ টাকার তেল নিয়েছিলাম। আজ প্রায় ১০ দিন পর আবার তেল নিতে এসেছি। এই কার্ড দেখালে আবার তেল পাওয়া যাবে, এটা নিশ্চয়তা।’
আরেক গ্রাহক একরাম আলী জানান, আগের দিন দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাননি। তবে এখানে এসে কার্ড পেয়ে তেল নিতে পারছেন।
পাম্পে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য জানান, এই পদ্ধতি অবলম্বন করায় পাম্পে শান্ত পরিবেশ রয়েছে। যাঁর কাছে কার্ড থাকবে, তিনি লাইন মেনে এলেই তেল পাচ্ছেন।
সিএ/এমই


