রাসুল (সা.)-এর জীবন মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সংবেদনশীলতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত। মানুষের সুবিধা-অসুবিধা এবং মানসিক অবস্থার প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ ইসলামী ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
একটি ঘটনায় দেখা যায়, তিনি ফজরের নামাজ দ্রুত শেষ করেন, যদিও সাধারণত এ নামাজ দীর্ঘ কেরাতে আদায় করা হয়। নামাজ শেষে সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, নামাজের সময় এক শিশুর কান্না শুনে তাঁর মনে হয়েছে, এতে শিশুটির মা কষ্ট পাচ্ছেন। তাই তিনি নামাজ সংক্ষিপ্ত করেন। (আখলাকুন নবী: ১৫৭)
এ ঘটনা থেকে তাঁর সংবেদনশীলতার গভীরতা স্পষ্ট হয়। একজন মুসুল্লির কষ্ট লাঘব করতে তিনি প্রচলিত নিয়মেও পরিবর্তন আনতে দ্বিধা করেননি।
অন্য এক ঘটনায় জানা যায়, মসজিদে কেউ ঘুমিয়ে থাকলে তিনি সালাম এত আস্তে দিতেন, যাতে অন্যদের ঘুম না ভাঙে। (সহিহ মুসলিম: ২০৫৫)
দূরবর্তী এলাকা থেকে আগত সাহাবিদের ক্ষেত্রেও তিনি তাদের মানসিক অবস্থা বিবেচনা করতেন। মালিক বিন হুওয়াইরিস (রা.) ও তাঁর সঙ্গীরা মদিনায় কিছুদিন থাকার পর তিনি বুঝতে পারেন, তারা হয়তো পরিবারের জন্য ব্যাকুল। তখন তিনি তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। (সহিহ মুসলিম: ৬৭৪)
শিশুদের প্রতিও তাঁর আচরণ ছিল অত্যন্ত স্নেহপূর্ণ। হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি কখনো কোনো ভুলের জন্য তিরস্কার করতেন না এবং অত্যন্ত কোমল আচরণ করতেন। (সহিহ মুসলিম: ২৩০৯, ২৩১০)
এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, রাসুল (সা.) মানুষের আবেগ, প্রয়োজন ও বাস্তবতার প্রতি গভীরভাবে সংবেদনশীল ছিলেন। তাঁর জীবনধারা অনুসরণ করে সমাজে মানবিকতা ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
সিএ/এমআর


