কক্সবাজারে বন্ধুসভার আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে বীর মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেছেন। অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার দুপুরে বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধ জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। ১৯৭১ সালের মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে লাল–সবুজের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পায়। গত পাঁচ দশকে মুক্তিযুদ্ধ ও এর ইতিহাস নানা রকমভাবে বিকৃত হলেও এই ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না। শিক্ষার্থীদের সঠিক ইতিহাস জানা জরুরি এবং নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশের উন্নয়নে দায়িত্বশীল হতে হবে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কক্সবাজার জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক এম রুহুল আমিন মুকুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে কখনো খাটো করে দেখা যাবে না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঠিক ইতিহাস ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে ‘মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড–২০২৬’ আয়োজন করেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা। ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে মার্চ মাস জুড়ে দেশব্যাপী এই অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অধ্যক্ষ মো. ছৈয়দ করিম বলেন, নতুন প্রজন্ম যদি সঠিক ইতিহাস জানে না, জাতি বিভ্রান্ত হবে এবং দেশপ্রেম হারাবে। প্রধান অতিথি মহাপরিচালক এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও এর ইতিহাসকে খাটো করার সুযোগ নেই।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন স্মৃতিচারণে জানান, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়েছে। শহীদ সুভাষ–ফরহাদসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা জীবন হারিয়েছেন, শত শত মা–বোনের সম্ভ্রম লুন্ঠিত হয়েছে। সেই ত্যাগের ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যাবে না।
প্রথম আলোর কক্সবাজার প্রতিনিধি আব্দুল কুদ্দুস উল্লেখ করেন, ২৬ মার্চ থেকে দেশজুড়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলেও কক্সবাজারে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আসে ৫ মে। ক্যাপ্টেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সুবহানের নেতৃত্বে কক্সবাজার ও বান্দরবান এলাকায় লড়াই হয়। ১২ ডিসেম্বর কক্সবাজার শত্রুমুক্ত হয়।
বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ২০০ শিক্ষার্থী মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড কুইজে অংশ নেন। সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে পাঁচজন কুইজ বিজয়ী ঘোষিত হন। প্রথম হয়েছেন দশম শ্রেণির নুসহাত রহমান ওয়ারিশা। অন্যরা হলেন ষষ্ঠ শ্রেণির আরাওয়া সুলতানা নাজনীন, অষ্টম শ্রেণির আরিফ আদনান, দশম শ্রেণির আফরা রাইহানা ও দশম শ্রেণির রাইশা জান্নাত তাসনিন। বিজয়ীদের হাতে অতিথিরা মুক্তিযুদ্ধের বই উপহার দেন।
সিএ/এমই


