প্রযুক্তি জগতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে গুগলের উদ্ভাবিত একটি এআই কমপ্রেশন অ্যালগরিদম। সম্প্রতি এ নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণা ব্লগের পরপরই বৈশ্বিক মেমোরি-নির্ভর চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। এতে মাইক্রন টেকনোলজির শেয়ার প্রায় ৩ শতাংশ কমে যায়, ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল হারায় ৪.৭ শতাংশ এবং স্যানডিস্কের শেয়ার পড়ে ৫.৭ শতাংশ।
এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে মূল্যায়ন শুরু করেছেন—এআই খাতে প্রকৃতপক্ষে কতটা ফিজিক্যাল মেমোরির প্রয়োজন হবে। গুগলের নতুন অ্যালগরিদম ‘টার্বোকোয়েন্ট (TurboQuant)’ বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল পরিচালনার অন্যতম ব্যয়বহুল উপাদান ‘কী-ভ্যালু ক্যাশ’-এর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার দাবি করছে।
কী-ভ্যালু ক্যাশ মূলত একটি উচ্চগতির ডেটা সংরক্ষণ ব্যবস্থা, যা মডেলকে পুনরায় গণনা ছাড়াই কনটেক্সট তথ্য ব্যবহার করতে সহায়তা করে। তবে ইনপুট বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ক্যাশ দ্রুত বিস্তৃত হয়ে জিপিইউ মেমোরি দখল করে ফেলে, যা অন্য ব্যবহার বা বড় মডেল চালনায় বাধা সৃষ্টি করে।
নতুন এই প্রযুক্তিতে ক্যাশ ডেটা ১৬ বিটের পরিবর্তে মাত্র ৩ বিটে সংকুচিত করা সম্ভব, ফলে মেমোরি ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটে। গুগলের দাবি অনুযায়ী, এতে অন্তত ছয় গুণ কম মেমোরি ব্যবহৃত হয় এবং নির্ভুলতায় কোনো দৃশ্যমান প্রভাব পড়ে না।
টার্বোকোয়েন্টের কার্যপ্রণালী দুই ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপে ‘পোলারকোয়েন্ট’-এর মাধ্যমে ডেটাকে কার্টেসিয়ান থেকে পোলার স্থানাঙ্কে রূপান্তর করা হয়, যেখানে মান ও কোণের ভিত্তিতে তথ্য পুনর্গঠন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে ‘কিউজেএল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ত্রুটিকে সীমিত রাখা হয়, যা ডেটার গুণগত মান বজায় রাখতে সহায়তা করে।
গবেষণাটি আইসিএলআর ২০২৬ সম্মেলনে উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সিএ/এমআর


