জ্বালানি তেলের সংকটে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলচালকেরা বিপাকে পড়েছেন। সপ্তাহখানেক ধরে তেলের অভাবে বেশির ভাগ মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। অল্পসংখ্যক মোটরসাইকেল চললেও যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।
আজ রোববার বিকেলে ধর্মপাশা উপজেলা সদরের আনন্দ মোড় এলাকায় দেখা যায়, জ্বালানি তেলের অভাবে খুব কমসংখ্যক মোটরসাইকেল চলাচল করছে।
স্থানীয় চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাওরবেষ্টিত হওয়ায় ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার মানুষ বছরের প্রায় ছয় মাস নৌকায় যাতায়াত করেন। শুষ্ক মৌসুমে চলাচলের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা। দুই উপজেলায় ভাড়ায় চালিত আট শতাধিক মোটরসাইকেল রয়েছে। তবে ঈদুল ফিতরের পরদিন থেকে স্থানীয় বাজারগুলোতে পেট্রল ও অকটেনের সংকট দেখা দেয়। খুচরা বিক্রেতারা তেল সংগ্রহ করতে না পারায় অনেক দোকান বন্ধ রয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বীর দক্ষিণ পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রবু চান মিয়া (৪২) বলেন, ঈদের পরদিন থেকে বাজারে পেট্রল বা অকটেন কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, বারহাট্টা উপজেলার ইসলামপুর পাম্প থেকে তেল আনতে হয়। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার পেট্রল পাওয়া গেলেও তা নিয়মিত মেলে না। ফলে মোটরসাইকেল চালাতে না পেরে পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে তাঁর।
বেখইজোড়া গ্রামের বাসিন্দা আরিফ (৩০) ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। তিনি বলেন, সকাল নয়টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুরে পাশের কলমাকান্দা উপজেলার একটি পাম্প থেকে ৫০০ টাকার পেট্রল কিনতে পেরেছেন। তেলের সংকট দীর্ঘদিন চললে এই পেশা ছাড়তে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
উত্তরপাড়া গ্রামের মাজহারুল (৩৩) বলেন, কয়েক দিন আগে জামালগঞ্জের মান্নানঘাট থেকে দুই লিটার পেট্রল কিনে কোনোমতে ধর্মপাশা বাজারে এসেছিলেন। বর্তমানে তেলের অভাবে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ রেখেছেন।
মধ্যনগর উপজেলার হাওরিয়াপাড়া গ্রামের সমীরণ দাস (৩১) বলেন, ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়েই তাঁর সংসার চলে। কিন্তু পেট্রল না থাকায় গাড়ি চালানো বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
মধ্যনগর বাজারের বাসিন্দা রয়েল মিয়া (৪০) জানান, সাধারণ সময়ে ধর্মপাশা থেকে মধ্যনগর পর্যন্ত মোটরসাইকেল ভাড়া ছিল ২০০ টাকা। কিন্তু এখন তেলের সংকটের অজুহাতে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধর্মপাশা থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তিনিও বারহাট্টার ইসলামপুর পাম্প থেকে ৫০০ টাকার পেট্রল কিনেছেন। তিনি বলেন, সেখানে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ইসলামপুর এলাকার মেসার্স শুভ্র শান্তি ফিলিং স্টেশনের মালিক দীপক কুমার সাহা বলেন, ভৈরব ও ঢাকার ডিপো থেকে তারা তেল সংগ্রহ করেন। কিন্তু বর্তমানে এসব জায়গায় পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় শুক্র ও শনিবার পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, উপজেলায় কোনো ফিলিং স্টেশন নেই। পেট্রল ও অকটেনের খুচরা বিক্রেতারা যদি অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করেন, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


