নোয়াখালীর সদর উপজেলায় একটি বাড়িতে ঢুকে পরিবারের তিন সদস্যকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনায় গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবকের নাম মো. নীরব (২৬)। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে নোয়াখালী জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে একই দিন সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজনের পিটুনিতে গুরুতর আহত হন নীরব। পুলিশ জানিয়েছে, মাদকসংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে এ হামলা ও পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে আন্ডারচর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার রুবেল মাঝির বাড়িতে দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে হামলা চালান একই এলাকার গণি মাঝির ছেলে নীরব। ওই সময় তাঁরা বাড়ির তিন সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেন।
হামলার খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে হামলাকারীদের ধাওয়া দেন। এ সময় নীরবের দুই সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও নীরবকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। পরে তাঁকে গণপিটুনি দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুর রহমানসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নীরবকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে নোয়াখালী জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
সুধারাম থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক নিয়ে ঝামেলার জেরে রুবেল মাঝির বাড়িতে দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে আজ সকালে হামলা করেছিলেন নীরব। তাঁরা তিনজনকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে নীরবকে আটক করে পিটুনি দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে তিনিসহ পুলিশ গিয়ে নীরবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির পর সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নীরব মারা যান।’
ওসি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কারা জড়িত তা শনাক্তে কাজ চলছে এবং নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


