সরকার যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ওপর অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তবে তার পরিণতি শুভ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, একই প্রক্রিয়ায় গণভোট ও সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে একটিকে বৈধ এবং অন্যটিকে অবৈধ বলা হচ্ছে, যা বিবেকবিরোধী এবং প্রতারণার শামিল।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে খুলনা মহানগরের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে নগরের খালিশপুর বিআইডিসি রোডের শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট মিলনায়তনে আয়োজিত ঈদ প্রীতিসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একই প্রক্রিয়ায় গণভোট ও সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে একটিকে বৈধ আর অন্যটিকে অবৈধ বলা হচ্ছে—যা বিবেকবিরোধী ও প্রতারণার শামিল।’ তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে সরকার যদি জনগণের ওপর অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তবে তার পরিণতি শুভ হবে না।
অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাসের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসকেরা বহু সময় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণকে দমন করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা টিকে থাকতে পারেনি এবং অনেক ক্ষেত্রে দেশ ছাড়তেও বাধ্য হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পূর্ণ দায়িত্ব সরকারের। যদি এই সংকট দীর্ঘায়িত হয়, তবে এর দায়ভারও সরকারকেই বহন করতে হবে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশকে আর সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া উচিত নয় এবং জনগণকে আবার রাজপথে নামতে বাধ্য করা ঠিক হবে না।
বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কোনো বিশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসের রাজনীতি সমর্থন করে না। তবে অন্যায় ও মন্দ কাজের বিরুদ্ধে তারা আপসহীন থাকবে। আমরা সৎ কাজে সহযোগিতা করব, অন্যায়ের কঠোর প্রতিবাদ করব।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে এবং শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে দেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের সমর্থন পাওয়া জুলাই সনদকে উপেক্ষা করা মানে জনগণের রায় অস্বীকার করা। দ্রুত এটিকে আইনে পরিণত না করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
অনুষ্ঠানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগর সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শফিকুল আলম, খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন এবং জামায়াতের দাকোপ-বটিয়াঘাটা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী।
সিএ/এমই


