নামাজ আদায়ের সময় মনোযোগ হারিয়ে ফেলা বা অপ্রাসঙ্গিক চিন্তার উদয় হওয়া অনেক মুসল্লির জন্যই পরিচিত একটি সমস্যা। ইসলামী পরিভাষায় একে ‘ওয়াসওয়াসা’ বলা হয়, যা শয়তানের পক্ষ থেকে কুমন্ত্রণা হিসেবে বিবেচিত। ইবাদতের মূল প্রাণ হলো একাগ্রতা বা খুশু-খুজু, আর এই মনোযোগ নষ্ট হয়ে গেলে নামাজের গভীরতা ব্যাহত হয়।
এ ধরনের চিন্তা মনে আসলে অনেকেই আশঙ্কা করেন, তাদের ঈমান দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে হাদিসে এ বিষয়ে ভিন্ন বার্তা দেওয়া হয়েছে। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘এটিই হলো স্পষ্ট ইমান।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩২)। আলেমদের মতে, খারাপ চিন্তা নিয়ে অন্তরে যে অস্বস্তি বা ঘৃণা সৃষ্টি হয়, সেটিই প্রকৃত ঈমানের লক্ষণ।
ধর্মীয় বিশ্লেষণে বলা হয়, যেমন চোর খালি ঘরে ঢোকে না, তেমনি শয়তানও ঈমানহীন অন্তরে কুমন্ত্রণা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না। তাই ওয়াসওয়াসার উপস্থিতি কখনো কখনো ঈমানের অস্তিত্বের ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হয়।
কোরআনে এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুরা আরাফের ২০০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।’
আল-আজহার ফতোয়া কমিটির সাবেক প্রধান শেখ আতিয়্যাহ সাকার (রহ.) এ বিষয়ে একটি উপমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো কুকুর আক্রমণ করতে এলে তার সঙ্গে সরাসরি লড়াই করার চেয়ে মালিককে ডাকা বেশি কার্যকর। একইভাবে শয়তানের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধের চেয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনাই সবচেয়ে ফলপ্রসূ।
নামাজে মনোযোগ ধরে রাখতে আলেমরা কয়েকটি করণীয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বারবার মনোযোগ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কুমন্ত্রণা এলে সেটিকে গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করতে হবে। তৃতীয়ত, নামাজের আগে ও পরে বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা এবং আল্লাহর মহিমা স্মরণ করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নামাজে মনোযোগ হারানো মানেই ব্যর্থতা নয়। বরং ধারাবাহিক চেষ্টা এবং আল্লাহর ওপর ভরসার মাধ্যমে এই বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। কোরআনে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর ওপর নির্ভর করে, তাদের ওপর শয়তানের কোনো প্রভাব থাকে না।
সিএ/এমআর


