রমজান মাসের পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখা মুসলমানদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত। একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং এরপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৪)
তবে এই আমলের ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কিছু আলেমের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বিশেষ করে ইবনুদ দিহিয়া এই হাদিসটির বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং একে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ইবনে কাইকালদি তাঁর গ্রন্থে এই সংশয়ের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, হাদিসটি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হওয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহের সুযোগ নেই। ইসলামী শিক্ষাবিদদের মধ্যে বুখারি ও মুসলিমের হাদিসগুলোকে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়।
এ ছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, এই হাদিসটি কেবল একজন বর্ণনাকারীর ওপর নির্ভরশীল নয়। একাধিক বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীর মাধ্যমে এটি বর্ণিত হয়েছে, যা এর গ্রহণযোগ্যতাকে আরও শক্তিশালী করে।
ইমাম মালিক এই হাদিসের ওপর আমল করার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করলেও তিনি এর বর্ণনাকে অস্বীকার করেননি। মূলত স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী তিনি এটিকে বাধ্যতামূলক মনে করেননি।
শাওয়ালের ছয় রোজা রাখার পদ্ধতি নিয়েও কিছু মতভেদ রয়েছে। কেউ একনাগাড়ে রাখার পক্ষে, আবার কেউ বিরতি দিয়ে রাখার পক্ষে মত দেন। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে, শাওয়াল মাসের যেকোনো ছয় দিনে রোজা রাখলেই এর সওয়াব পাওয়া যায়।
ধর্মীয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই আমলটি সুন্নত হিসেবে স্বীকৃত এবং এর ফজিলত অনেক। তাই ব্যক্তিগত মতভেদের কারণে এটি বর্জন করার প্রয়োজন নেই।
সিএ/এমআর


