নামাজ কেবল ইবাদত নয়, এটি মুমিনের দৈনন্দিন জীবনের শৃঙ্খলা ও আত্মশুদ্ধির মূল ভিত্তি। কোরআন ও হাদিসে বারবার নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, মুমিনদের জন্য নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।
ইসলামী শরিয়তে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা অপরিহার্য। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও একাধিক হাদিসে সময়মতো নামাজ আদায়ের গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যারা যথাযথভাবে নামাজ আদায় করবে, তাদের জন্য জান্নাত নিশ্চিত। যারা গাফিলতি করবে, তাদের ওপর আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরো বাড়ির সামনে একটি নির্মল পানির নদী বইছে, যেখানে দিনে পাঁচবার গোসল করা হয়। এতে কি শরীরে কোনো ময়লা থাকে? সাহাবিরা বললেন না। নবীজি বলেন, ঠিক তেমনভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মানুষের গুনাহ দূর করে।
আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ গুনাহ মোচনের মাধ্যম, যা বড় গুনাহ থেকেও মানুষকে বিরত রাখে। মুনাফিকদের সঙ্গে মুমিনদের পার্থক্য বোঝা যায় ফজর ও এশার নামাজে উপস্থিতির মাধ্যমে।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কেউ উত্তমভাবে অজু করে নামাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হলে, পথেই সে নামাজের সওয়াব পায়। প্রতিটি দুই কদমে একটি নেকি লেখা হয় এবং একটি গুনাহ মুছে দেওয়া হয়।
হাদিসে আরও বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন মানুষের আমলনামা যাচাইয়ের সময় প্রথমে নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। নামাজ সঠিক হলে অন্যান্য আমলও গ্রহণযোগ্য হবে।
জামাতে নামাজের ফজিলতও উল্লেখযোগ্য। একাকী নামাজের তুলনায় জামাতে নামাজের সওয়াব ২৭ গুণ বেশি। এশার নামাজ জামাতে আদায় করলে অর্ধরাত ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায়, ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করলে পুরো রাতের ইবাদতের মর্যাদা লাভ হয়।
সিএ/এমআর


