চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কুমুরুয়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মুমিন বাড়ি মাদরাসায় দীর্ঘদিন ধরে কোরআন শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রায় শত বছর আগে কারী ইব্রাহীম (রহ.) এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এখনো প্রতি রমজান মাসে বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করেন।
মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সহিহ ও শুদ্ধভাবে কোরআন পাঠে মানুষকে দক্ষ করে তুলতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে কেরাত বিভাগে এই প্রতিষ্ঠানের দেশ-বিদেশে সুনাম রয়েছে।
এই মাদরাসা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কেরাত বিভাগ পরিচালনা করছেন বহু শিক্ষক। বর্তমানে কেরাতের পাশাপাশি হিফজুল কোরআন ও নুরানী বিভাগও চালু রয়েছে।
চলতি বছর রমজান মাসজুড়ে জেনারেল শিক্ষিতসহ বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীরা এখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ২৫ রমজান দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শেষ হয়, যেখানে বহু ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মুমিন বাড়ি মাদরাসার মসজিদে শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থী নয়, আশপাশের এলাকার মানুষও নিয়মিত নামাজ আদায় করেন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
চাপিলা গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ খান বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের কারণে আশপাশের মসজিদে প্রশিক্ষিত ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে, যা ধর্মীয় শিক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মাদরাসার শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানে আবাসিক ও অনাবাসিক উভয় ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। দক্ষ হাফেজদের তত্ত্বাবধানে হিফজ বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে। এ বছর হিফজ সম্পন্ন করা কয়েকজন শিক্ষার্থী মাদরাসা মসজিদে খতমে তারাবি পড়াচ্ছেন।
মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মো. আশরাফ আলী খান বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সহিহভাবে কোরআন শিক্ষার ধারা বজায় রয়েছে। রমজানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা এসে এখানে আবাসিকভাবে শিক্ষা গ্রহণ করছেন। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কেরাতসহ অন্যান্য বিভাগও সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে এবং বহু বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই হাফেজরা তারাবি পড়াচ্ছেন।
সিএ/এমআর


