সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্টের বিস্তার নিয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হুইসেলব্লোয়ারদের দাবি, ব্যবহারকারীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন কনটেন্ট বেশি দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক কর্মীদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাদের মতে, যেসব কনটেন্ট ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ, উত্তেজনা বা বিতর্ক বাড়ায়, সেগুলো অ্যালগরিদমে অগ্রাধিকার পেত। এতে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে থাকেন, যা ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক।
মেটার এক প্রকৌশলী জানান, ব্যবস্থাপনা থেকে ‘বর্ডারলাইন’ ক্ষতিকর কনটেন্ট বেশি প্রচারের নির্দেশ ছিল। এসব কনটেন্টে নারীবিদ্বেষ, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও ঘৃণামূলক বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে, বিশেষ করে টিকটকের উত্থানের পর, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একজন টিকটক কর্মী অভ্যন্তরীণ নথি দেখিয়ে জানান, কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের সুরক্ষার চেয়ে রাজনৈতিক বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নিয়ন্ত্রণ ঝুঁকি কমাতেই এই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
হুইসেলব্লোয়াররা আরও বলেন, সহিংসতা, যৌন ব্ল্যাকমেইল বা সন্ত্রাসসংক্রান্ত কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। মেটার দাবি, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়ায় না। টিকটকও অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।
প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ফিচার চালু করার প্রবণতাও বেড়েছে। টিকটকের জনপ্রিয়তার পর মেটা ইনস্টাগ্রামে ‘রিলস’ চালু করে। তবে এক সাবেক গবেষকের মতে, এই ফিচার যথেষ্ট নিরাপত্তা প্রস্তুতি ছাড়া চালু করা হয়েছিল।
অভ্যন্তরীণ গবেষণায় দেখা যায়, রিলসে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও হয়রানির হার তুলনামূলক বেশি। অ্যালগরিদমের কার্যপ্রণালীও অনেকাংশে অস্বচ্ছ। এক সাবেক প্রকৌশলী এটিকে ‘ব্ল্যাক বক্স’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তার মতে, ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে কনটেন্ট সাজানো হয়। কোনো পোস্ট বেশি প্রতিক্রিয়া পেলে সেটি আরও বেশি মানুষের সামনে আসে, ফলে ক্ষতিকর কনটেন্টও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়।
কিছু কিশোর ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তারা জানান, অপছন্দের কনটেন্ট বন্ধ করার অপশন থাকলেও তা সবসময় কার্যকর হয় না। একজন কিশোর দাবি করেন, অ্যালগরিদমের কারণে তিনি চরমপন্থী ও বিদ্বেষমূলক চিন্তায় প্রভাবিত হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার বাস্তব জীবনেও প্রভাব ফেলে। মানুষের সহিংসতা ও ঘৃণার প্রতি সংবেদনশীলতা কমে যেতে পারে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সিএ/এমআর


