রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির নিরবতায় যখন ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা, তখন নিয়মিত অভুক্ত কুকুর ও বিড়ালের জন্য খাবার নিয়ে ঘুরছেন সালাহউদ্দীন মামুন। তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে সবার নজর কেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষণাগারে কর্মরত সালাহউদ্দীন প্রতিদিন শতাধিক প্রাণীকে খাবার দেন। এক দিন পরপর তিনি নিজেই প্রায় ২৫ কেজি খাবার রান্না করেন, যার একটি অংশ কুকুরের জন্য এবং অন্য অংশ বিড়ালের জন্য ব্যবহৃত হয়।
তিনি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে কুকুরদের খাবার দেন এবং হলগুলোর নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে বিড়ালের জন্য খাবার পৌঁছে দেন। পুরো কাজটি সম্পন্ন করতে তার কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।
প্রায় আট বছর আগে একটি ঘটনার পর থেকেই তার এই কাজের শুরু। একটি মৃত কুকুরের পাশে ক্ষুধার্ত বাচ্চাগুলো দেখে তিনি এগিয়ে আসেন এবং সেগুলো লালন-পালন করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন প্রাণীর পাশে দাঁড়ানোই হয়ে ওঠে তার নিত্য কাজ।
সালাহউদ্দীন আহত বা অসুস্থ প্রাণীদের প্রাথমিক চিকিৎসাও দিয়ে থাকেন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। তার বাসায় বর্তমানে কিছু পাখির চিকিৎসাও চলছে।
নিজের আয়ের একটি অংশ তিনি প্রাণীদের জন্য ব্যয় করেন। প্রথমদিকে কারও সহায়তা না নিলেও সম্প্রতি কিছু মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন, যার সাড়া সীমিত ছিল।
স্থানীয়রা তার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং প্রাণীদের জন্য এটি বড় সহায়তা বলে মনে করছেন।
তিনি জানান, শহরে কোনো প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় আহত প্রাণীদের নিজ বাসায় নিয়ে চিকিৎসা দিতে হয়। ভবিষ্যতে একটি আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
সিএ/এমআর


