চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় অবস্থিত জেপি সনেট লিমিটেড পোশাক কারখানায় তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। জেলার প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়ে কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে ১৩০ জন শ্রমিকের প্রায় ১৬ লাখ টাকা বকেয়া মজুরি পরিশোধ করেন।
কারখানার শ্রমিকদের অভিযোগ, মাস তিন ধরে তাদের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। ১৪ মার্চ বেতনের দাবিতে কারখানায় অসন্তোষ দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। আজ ভোরে যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধ করা হয়। এর আগে মোট পাওনার মধ্যে মাত্র ১ লাখ টাকা শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছিল।
জেলা প্রশাসন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি, শিল্প পুলিশ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। গত শনিবার শ্রমিকরা বেতন-ভাতার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। সোমবারের বৈঠকে মালিকপক্ষ লিখিত অঙ্গীকার করেন যে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে বকেয়া পরিশোধ করা হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে যন্ত্রপাতি ও স্টক বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। প্রথমে ক্রেতা দ্বিধা দেখালেও ডিসি স্যারের কঠোর অবস্থানের পর সমঝোতা হয় এবং ভোর ৬টায় পুরো বকেয়া পরিশোধ করা হয়।’
কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজীব দাস বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করেছি। ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করেই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা হয়নি।’
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘ঈদের আগে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং তাদের দুর্দশা বিবেচনা করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারখানায় সার্বক্ষণিকভাবে মোতায়েন ছিলেন।’
সিএ/এমই


