মহাকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলোর একটি সুপারনোভা নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্য উন্মোচনে অগ্রগতি এসেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কিছু সুপারনোভা কেন সাধারণের তুলনায় শতগুণ বেশি উজ্জ্বল হয়, তার পেছনের কারণ এখন অনেকটাই পরিষ্কার।
সুপারনোভা হলো বিশালাকার তারার জীবনের শেষ মুহূর্তের এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ, যা সূর্যের তুলনায় প্রায় একশ কোটি গুণ বেশি উজ্জ্বল হতে পারে। তবে এর মধ্যেও ‘সুপারলুমিনাস সুপারনোভা’ নামে পরিচিত কিছু বিরল বিস্ফোরণ রয়েছে, যেগুলো আরও ১০ থেকে ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী।
সম্প্রতি প্রায় ১০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের একটি ছায়াপথে এমনই এক সুপারনোভা পর্যবেক্ষণ করে গবেষকরা এই রহস্যের ব্যাখ্যা পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথম শনাক্ত হওয়া এই বিস্ফোরণটি ক্যালিফোর্নিয়ার লাস কামব্রেস অবজারভেটরি ও চিলির অ্যাটলাস সার্ভে টেলিস্কোপ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গবেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত উজ্জ্বলতার মূল কারণ ‘ম্যাগনেটার’। বিস্ফোরণের পর তারার কেন্দ্রে তৈরি হওয়া এই অত্যন্ত ঘন ও দ্রুত ঘূর্ণনশীল বস্তুটির চৌম্বক ক্ষেত্র অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি প্রতি সেকেন্ডে শত শত বার ঘোরে এবং শক্তিশালী কণাগুলোকে চারপাশের গ্যাস ও ধুলার মেঘে নিক্ষেপ করে, যার ফলে বিস্ফোরণের উজ্জ্বলতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
ম্যাগনেটার আসলে এক ধরনের নিউট্রন তারা, যা বিশাল তারার সংকুচিত কেন্দ্র থেকে তৈরি হয়। যখন তারার জ্বালানি ফুরিয়ে যায়, তখন তা নিজের মহাকর্ষীয় চাপ সামলাতে না পেরে বিস্ফোরিত হয়।
“বড় আকারের তারার যখন সব পারমাণবিক জ্বালানি শেষ হয়ে যায় তখন তা আর নিজের ওপর মহাকর্ষ বলের প্রচণ্ড চাপ সামলে রাখতে পারে না এবং সংকুচিত হয়ে বিস্ফোরিত হয়।”
গবেষকরা আরও জানান, এই ধরনের সুপারনোভায় উজ্জ্বলতার ওঠানামার পেছনে ‘লেন্স থিরিং প্রিসিশন’ নামে একটি প্রক্রিয়া কাজ করে, যেখানে দ্রুত ঘূর্ণনশীল ম্যাগনেটার মহাকাশের সময়-স্থান কাঠামোকে প্রভাবিত করে।
“কেন্দ্রের ভর অনেক বেশি হলে তা সরাসরি ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয়। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সেই সদ্যজাত নিউট্রন তারাটি টিকে যায় ও একটি ম্যাগনেটার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।”
গবেষণাটি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল নেচারে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের বিস্ফোরণজনিত ঘটনাগুলো সম্পর্কে নতুন ধারণা দেবে।
সিএ/এমআর


