ডিজিটাল যুগে প্রতিদিনের জীবন নানা অনলাইন অ্যাকাউন্টের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইমেইল, অফিস কিংবা ব্যাংকিং—সব জায়গাতেই আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এতগুলো জটিল পাসওয়ার্ড মনে রাখা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, একজন ব্যবহারকারীর গড়ে প্রায় ১৬০টি অনলাইন অ্যাকাউন্ট থাকে। এত পাসওয়ার্ড মনে রাখা সম্ভব না হওয়ায় অনেকেই পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের ওপর নির্ভর করেন। এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীর সব পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে এবং একটি মাস্টার পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সেবাদাতারা দাবি করে, তারা ব্যবহারকারীর তথ্য এনক্রিপশন পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে, ফলে কেউ তা দেখতে পারে না। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা সামনে এসেছে। জার্মানির ইটিএইচ জুরিখ ও লুগানো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা কয়েকটি জনপ্রিয় পাসওয়ার্ড ম্যানেজার পরীক্ষা করে কিছু দুর্বলতা শনাক্ত করেছেন।
গবেষণায় বলা হয়েছে, যদি কোনোভাবে হ্যাকাররা সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তাহলে তারা ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড শেয়ারিংয়ের মতো কিছু ফিচার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গবেষক দলের প্রধান কেনেথ প্যাটারসন বলেন, ‘কিন্তু রোজা আলাদা। কেননা, তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় দেব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৯৪)
এই বক্তব্যটি ভুল প্রসঙ্গের কারণে এখানে প্রযোজ্য নয়, তাই মূল আলোচনায় ফিরে আসা প্রয়োজন। গবেষকেরা জানিয়েছেন, সার্ভার যদি ভুল তথ্য সরবরাহ করে, তাহলে ব্যবহারকারী অজান্তেই হ্যাকারদের হাতে তথ্য তুলে দিতে পারেন।
তবে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কোম্পানিগুলো এই গবেষণার ফলাফল পুরোপুরি মেনে নেয়নি। তাদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া বাস্তবে খুবই কঠিন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার শতভাগ নিরাপদ না হলেও এটি এখনো সবচেয়ে কার্যকর সমাধানগুলোর একটি। কারণ সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
তাই প্রযুক্তির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে সচেতনভাবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ বলে মনে করা হচ্ছে।
সিএ/এমআর


