খুলনার সুন্দরবনে কোস্টগার্ড বনদস্যুদের হাত থেকে ছয় জেলেকে উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার ভোরে শিবসা নদী সংলগ্ন কালির খালে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। দস্যুরা মুক্তিপণের জন্য জেলেদের টানা ১০ দিন ধরে জিম্মি রাখেছিল।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে রয়েছেন খুলনার কয়রা উপজেলার রফিকুল (৩০), আলামিন (২৬) ও ইসমাঈল সানা (২৪), এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজান আলী (৩৬), রেজওয়ান (২২) ও মিয়া রাজ (১৮)। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম জানান, মো. কবির নামের এক ব্যক্তি তার ভাইকে ১০ দিন ধরে দস্যুরা জিম্মি রেখে মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি কোস্টগার্ডের জরুরি সেবা ১৬১১১ নম্বরে জানিয়েছিলেন।
নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর পাঁচটায় কোস্টগার্ড সদস্যরা কালির খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেলেদের উদ্ধার করেন। অভিযানের সময় দস্যুরা কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে জেলেদের রেখে পালিয়ে যায়, তাই কাউকে আটক করা যায়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সুন্দরবনের শেলা নদী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ দস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য ওসমান গণিকে (৩৮) আটক করা হয়।
কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে সুন্দরবনে দস্যুবিরোধী অভিযানে ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫টি হাতবোমা, ৭৮টি দেশি অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কমান্ডার আবরার হাসান জানান, এখন পর্যন্ত পাঁচটি দস্যু দল নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, তবে সাত থেকে আটটি দল এখনও সক্রিয় রয়েছে।
সিএ/এমই


