ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে এ সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোয়ালনগর ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থক রহিম তালুকদারের অনুসারীরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের বিজয়ী প্রার্থী এম এ হান্নানের পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে একই ইউনিয়নের কাশেম মিয়া ও তাঁর সমর্থকেরা ওই নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী কে এম কামরুজ্জামান মামুনের পক্ষ নেন।
ভোটের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে এম এ হান্নানের পক্ষের সমর্থক জিয়া মিয়াকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। তিন দিন আগে তিনি কারামুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জিয়া মিয়ার সন্দেহ ছিল যে, প্রতিপক্ষের সমর্থক শিশু মিয়া সেনাবাহিনীকে তথ্য দিয়ে তাঁর গ্রেপ্তারে ভূমিকা রেখেছিলেন। এ সন্দেহ থেকে সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে শিশু মিয়াকে মারধর করা হয় এবং তাঁর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এর জেরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে কাশেম মিয়ার পক্ষের লোকজন এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুরো এলাকা অস্থির হয়ে ওঠে। সংঘর্ষে লালুয়ারটুক এলাকার একটি ইটভাটা থেকে আনা ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা ও চাতলপাড় ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে রহিম তালুকদার ও কাশেম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়া নিয়ে সন্দেহ ও ভুল–বোঝাবুঝি থেকেই রহিম তালুকদার ও কাশেম মিয়ার পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষের সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। মসজিদের মাইকের ঘোষণার বিষয়টি আমি শুনিনি।’
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম বলেন, রহিম তালুকদার ও কাশেম মিয়ার পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই পক্ষ ভিন্ন অবস্থানে থাকায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। পূর্ববিরোধের জের ধরেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করার বিষয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে।
সিএ/এমই


