রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে অনেকের ধারণা ওজন কমবে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মাস শেষে ওজন কমার পরিবর্তে বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতির পেছনে বৈজ্ঞানিক ও আচরণগত নানা কারণ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের বেলায় কম খাওয়ার পর ইফতার ও রাতের খাবারে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণই এর অন্যতম কারণ। এতে সারাদিনে যে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি হয়, তা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি ক্যালরি শরীরে জমা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, রমজানের শুরুতে সামান্য ওজন কমলেও তা স্থায়ী হয় না। মাসের শেষ দিকে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এর পেছনে ‘ক্যালরি কম্পেনসেশন’ একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করে।
এ ছাড়া ঘুমের অনিয়ম ও শরীরের জৈবিক ঘড়ির পরিবর্তনও ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় ইফতারের সময় অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা দেখা যায়।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে চর্বি ও চিনি সমৃদ্ধ খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। এতে অতিভোজনের প্রবণতা বাড়ে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও সংযম ও পরিমিত আহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং ইবাদতের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
সচেতনভাবে সুষম খাদ্য গ্রহণ, অতিভোজন পরিহার এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করলে রমজানে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


