রমজানের শেষভাগে ঘরের কাজের চাপ সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। ঘর পরিষ্কার, রান্নার প্রস্তুতি এবং অতিথি আপ্যায়নের ব্যস্ততার মধ্যে যদি বাসার সাহায্যকারী ছুটিতে থাকেন, তাহলে অনেকের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে। তবে আগে থেকেই পরিকল্পনা করলে এই চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের প্রস্তুতি কয়েক দিন আগে থেকেই শুরু করা উচিত। ঘরের পর্দা, সোফার কভার পরিষ্কার করে আগেই লাগিয়ে নেওয়া ভালো। একই সঙ্গে জানালা, দরজা, কাচ এবং শো-কেসে রাখা জিনিসপত্র পরিষ্কার করে রাখলে শেষ মুহূর্তের চাপ কমে।
রান্নার প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও আগাম পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। আদা, রসুন ও পেঁয়াজ আগে থেকেই কেটে সংরক্ষণ করা যায়। একইভাবে কাবাব, সমুচা বা অন্যান্য নাশতা তৈরি করে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিলে ঈদের দিনে দ্রুত রান্না করা সম্ভব হয়।
বর্তমানে বিভিন্ন রান্নাঘরের গেজেট এই কাজকে আরও সহজ করে তুলেছে। রাইস কুকার, মাল্টিকুকার বা এয়ার ফ্রায়ারের মতো যন্ত্র ব্যবহার করে কম সময়ে সহজে রান্না করা যায়। এসব যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ শেষ করে বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বাড়তি নজরদারির প্রয়োজন হয় না।
যাদের এসব গেজেট নেই, তারা বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি সবজি কাটার জন্য ভেজিটেবল চপার বা ফুড প্রসেসর ব্যবহারে সময় সাশ্রয় হয়। ঘর পরিষ্কারের জন্য ভ্যাকুয়াম ক্লিনার এবং বাসন ধোয়ার জন্য ডিশওয়াশার ব্যবহার করাও কার্যকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ঈদের দিন খুব জটিল রান্না না করে সহজ ও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া ভালো। এতে সময় বাঁচে এবং কাজের চাপও কমে।
সব মিলিয়ে, আগেভাগে প্রস্তুতি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার করলে সাহায্যকারী না থাকলেও ঈদের ব্যস্ততা সামাল দেওয়া সহজ হয়ে উঠতে পারে।
সিএ/এমআর


