শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ভিজিএফ কর্মসূচিতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারের জন্য ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও সরাসরি বালতিতে বিতরণের পর দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ৫ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে চাল বিতরণ কার্যক্রমে এই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে শ্যামনগর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১৩,৩৩৭টি পরিবারের জন্য ১৩৩ দশমিক ৩৭০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পৌরসভার ১,৫৪৯টি পরিবারের জন্য ১৫ দশমিক ৪৯০ টন চাল বরাদ্দ ছিল। আটুলিয়া ইউনিয়নের ১,৩৭৩টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৩০ টন চাল।
অভিযোগ যাচাই করতে বেলা ১১টার দিকে আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গেলে দেখা যায়, ডিজিটাল স্কেল মিটার ব্যবহার না করে প্লাস্টিকের বালতিতে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। কয়েকটি প্যাকেট ডিজিটাল মিটারে ওজন করলে দেখা যায়, প্যাকেটগুলোতে ৪.৮৫০ থেকে ৫.৮০০ কেজি চাল আছে, যা সরকারি বরাদ্দের অর্ধেকের বেশি নয়। ভুক্তভোগী কয়েকজন নারী জানান, তাদের ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও ৪.৮ থেকে ৫ কেজি করে দেওয়া হয়েছে।
অবস্থানটি স্বচ্ছ করতে উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘বিতরণ কার্যক্রমে আমি উপস্থিত ছিলাম না। যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে পিআইও অফিসে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আটুলিয়া ইউনিয়ন ভিজিএফ কমিটির সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কার্ডের তালিকা থেকে চাল বিতরণ সব ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে হয়েছে। আমরা শুধু তদারকি করেছি।’ অন্যদিকে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কার্ত্তিক চন্দ্র মণ্ডল জানান, ‘চাল কম দেওয়ার বিষয়টি জানি না। ১,৩৭৩ পরিবারকে সঠিকভাবে চাল দেওয়া হয়েছে, বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।’
ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন স্বীকার করেছেন, ‘কার্ড ছাড়া অতিরিক্ত মানুষ আসায় সবাইকে ৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।’ ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বলেন, ‘অনেক বেশি মানুষ এসেছিল, তাই হয়তো চাল কম বিতরণ হয়েছে। আমি বিষয়টি সরাসরি বলতে পারছি না।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক জানিয়েছেন, চালের ওজনে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। যদি অনিয়ম প্রমাণিত হয়, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


