সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে নিহত জেলে সুব্রত মণ্ডলের পরিবারকে সরকারিভাবে তিন লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী নিহত জেলের মা বামনী মণ্ডলের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শেষে করমজল খাল সাঁতরে ফেরার সময় কুমিরের আক্রমণের শিকার হন জেলে সুব্রত মণ্ডল। কুমির তাকে টেনে নিয়ে গেলে পরে স্থানীয় লোকজন দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত সুব্রত মণ্ডলের বাড়ি খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী গ্রামে। তিনি বন বিভাগের অনুমতি বা পাস নিয়ে বৈধভাবে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়েছিলেন বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী বৈধভাবে বনে প্রবেশ করে বাঘ বা কুমিরের আক্রমণে কোনো জেলে মারা গেলে তার পরিবারকে তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সুব্রত মণ্ডল বৈধভাবে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়েছিলেন। তাই সরকারি বিধি অনুযায়ী তাঁর পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার দিন কুমিরে টেনে নেওয়ার প্রায় সাত ঘণ্টা পর স্থানীয় গ্রামবাসী করমজল খাল থেকে সুব্রত মণ্ডলের মরদেহ উদ্ধার করেন। বন বিভাগ জানায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতায় বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুসারে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
তবে বন বিভাগ জানিয়েছে, বৈধ পাস বা অনুমতি ছাড়া সুন্দরবনে প্রবেশ করে কেউ দুর্ঘটনার শিকার হলে এ ধরনের সরকারি সহায়তা পাওয়া যাবে না।
সিএ/এমই


