সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা এমন এক ধরনের ওয়াজিব দান, যা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর নির্ধারিত। যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়ালের ভোরে নিজের প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তার ওপর ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
এই সম্পদ নগদ অর্থ, সোনা, রুপা বা অন্য যেকোনো সম্পদের মাধ্যমে হতে পারে। ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ওই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অধীনস্থ নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী যাকাত ও ফিতরা উভয়ই ওয়াজিব সদকা হিসেবে বিবেচিত। তবে এসব অর্থ মসজিদ নির্মাণ বা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা বৈধ নয় বলে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
কারণ ওয়াজিব সদকা ব্যয়ের জন্য নির্দিষ্ট কিছু খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে বলা হয়েছে,
নিশ্চয় সদাকা হচ্ছে ফকীর ও মিসকীনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য; (তা বণ্টন করা যায়) দাস আজাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা তাওবা, আয়াত : ৬০)
ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী মসজিদ এই নির্ধারিত আট খাতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে মসজিদ নির্মাণ বা উন্নয়ন কাজে যাকাত ও ফিতরার অর্থ ব্যয় করা শরিয়তসম্মত নয়।
সিএ/এমআর


