গত পাঁচ অর্থবছরে খাল খনন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার, উন্নয়ন ও সীমানা নির্ধারণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৯২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। তবু বাস্তবতায় খালগুলোতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নেই, এবং বিভিন্ন অংশে আবর্জনা ও অবৈধ স্থাপনা জমে খাল ভরাট হয়ে গেছে।
মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর খালের শ্যামলী হাউজিং এলাকায় খালের ইউটার্ন আকৃতির অংশ আবর্জনায় ঠাসা। শ্যামলী হাউজিংয়ের বাসিন্দা শাহাদত হোসেন বলেন, খালের পানির দুর্গন্ধে জানালা খোলা রাখা যায় না, আর ভারী বৃষ্টি হলেই খালের পানি উপচে পড়ে।
ঢাকা উত্তর সিটির নতুন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি খাল সরেজমিনে পরিদর্শন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিকল্পনামাফিক কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। তিনি বলেন, আগে খাল উদ্ধার ও আবর্জনা পরিষ্কার নিয়ে কী হয়েছে, এ বিষয়ে জবাব দিতে পারবে না, তবে ভবিষ্যতে কার্যক্রম নিশ্চিত করবেন।
ঢাকা উত্তরে ৩২টি খাল রয়েছে। মিরপুরে সবচেয়ে বেশি খাল—১৪টি। এছাড়া মোহাম্মদপুর, উত্তরা, বাড্ডা, তেজগাঁও-মহাখালী ও নতুন যুক্ত ওয়ার্ডের বিভিন্ন খাল রয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদক গত ২৭ ফেব্রুয়ারি খালের বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। ১৫টি খালের মধ্যে সাতটির বিভিন্ন অংশে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নেই।
রূপনগর খালে গত অর্থবছরে দুটি ধাপে বর্জ্য অপসারণ করা হয়। প্রথম ধাপে ৩.৩ কিলোমিটার খালের বর্জ্য অপসারণে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে ৯০০ মিটার খাল পরিষ্কারে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। তবে খাল ভাসমান বর্জ্য, প্লাস্টিক ও আবর্জনা এখনো চোখে পড়ে। কিছু অংশে বাঁশ ও সিমেন্টের খুঁটি পুঁতে অবৈধ ঘর নির্মাণের চেষ্টা চলছে।
মিরপুরের বাউনিয়া খালে ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার, কসাইবাড়ি খালে ১ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার, কল্যাণপুর মূল খালে ২ দশমিক ৪২ কিলোমিটার এবং কল্যাণপুর-ঘ খালে ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতায় বাকি অংশের সংস্কারকাজ শুরু হয়নি।
নগর-পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, খাল রক্ষার জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চক্র ভাঙা প্রয়োজন। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সিএ/এমই


