সদকাতুল ফিতর ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। ‘সদকা’ অর্থ দান এবং ‘ফিতর’ অর্থ রোজা ভঙ্গ করা। সাধারণ অর্থে রমজান মাসে এক মাস রোজা পালনের পর গরিব ও অভাবী মানুষের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য বা তার সমমূল্য অর্থ বিতরণ করাকেই সদকাতুল ফিতর বলা হয়।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ঈদের আনন্দ ধনী-গরিব সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এই দানকে ওয়াজিব করা হয়েছে। দ্বিতীয় হিজরিতে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পরপরই নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের সদকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দেন।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন,
রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদকাতুল ফিতর আবশ্যক করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা জব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন ও নারী-পুরুষ সবার ওপরই এটি ওয়াজিব। (বুখারি, হাদিস: ১৫১২)
ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়, রমজান মাসে রোজা পালনের সময় মানুষের অনেক ভুল-ত্রুটি হয়ে যেতে পারে। সেই ত্রুটির ক্ষতিপূরণ এবং রোজাকে পবিত্র করার উদ্দেশ্যেও সদকাতুল ফিতর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন,
রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকাতুল ফিতর অবধারিত করেছেন অশ্লীল কথা ও অর্থহীন কাজ হতে রমজানের রোজাকে পবিত্র করার জন্য এবং গরিব-মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। (আবু দাউদ, হাদিস: ১৬০৯)
সদকাতুল ফিতরের নিসাব জাকাতের নিসাবের সমপরিমাণ। অর্থাৎ যার কাছে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা কিংবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকে এবং তা ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় বিদ্যমান থাকে, তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। যিনি এ ইবাদতের জন্য দায়িত্বশীল, তিনি নিজের পক্ষের পাশাপাশি নিজের অধীন পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।
ফিতরার পরিমাণ নির্ধারণে সাধারণত পাঁচটি খাদ্যপণ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। এগুলো হলো আটা, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনির। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী খেজুর, পনির, যব ও কিশমিশের ক্ষেত্রে এক সা এবং গমের ক্ষেত্রে অর্ধ সা পরিমাণ ফিতরা আদায় করা হয়। পরিমাপ অনুযায়ী এক সা প্রায় ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম এবং অর্ধ সা প্রায় ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম।
এই খাদ্যপণ্যের যেকোনো একটি দিয়ে অথবা তার সমমূল্য অর্থ দিয়েও ফিতরা আদায় করা যায়। অনেক আলেমের মতে, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অপেক্ষাকৃত মূল্যবান খাদ্যপণ্য ধরে ফিতরা আদায় করা উত্তম, যাতে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন আরও ভালোভাবে পূরণ হয়।
সদকাতুল ফিতর আদায়ের উত্তম সময় হলো ঈদুল ফিতরের নামাজে যাওয়ার আগে। তবে রমজান মাস চলাকালীন সময়েও আগেভাগে এটি আদায় করা যায়। ইসলামি বিধান অনুযায়ী যারা জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত, তারাই ফিতরা পাওয়ার ক্ষেত্রেও উপযুক্ত বিবেচিত হন।
চলতি বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ জনপ্রতি সর্বোচ্চ ফিতরা নির্ধারণ করেছে ২ হাজার ৮শ পাঁচ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১শ দশ টাকা।
সিএ/এমআর


