সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অংশ নেওয়ার পর দলটির কিছু সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনি প্রচারের সময় নারীনীতি নিয়ে দলটির অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। নারীদের কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টা করার প্রস্তাবটি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অনেকে মন্তব্য করেন। বিষয়টি ভোটারদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দেয়।
নির্বাচনের দিন পোলিং এজেন্টদের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের ঘাটতির অভিযোগও ওঠে। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় জামায়াত ও সহযোগী দলের এজেন্টদের অনুপস্থিতির ঘটনাও সামনে আসে। এসব কারণে নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় দলটির প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
এর পাশাপাশি বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি ঘটনার কারণে দলটি নতুন বিতর্কের মুখে পড়ে। জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগের সুপারিশসংবলিত একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পরে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই চিঠিতে উল্লেখিত কিছু বিষয় আমিরের নির্দেশনার বাইরে যুক্ত করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ২ মার্চ অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেমকে নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীকে ফরেন অ্যাফেয়ার্স কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অতীতে তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা থাকায় এই নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া দলের কয়েকজন নেতার বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়ে। এসব ঘটনার কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াতের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে দলটির নেতারা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা, নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মামলা ও সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশে কাজ করার সুযোগ কম ছিল। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দলটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তারা দাবি করেছেন।
সিএ/এমআর


