জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুই সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট পাঁচজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ জুলাই শহীদ মো. আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর (৩৫) বাবা আল আমিন পাটোয়ারী এবং জুলাইয়ে আহত আবু জুহামুল ইসলাম (১৮) আদালতে জবানবন্দি দেন। মামলাটির একমাত্র আসামি হিসেবে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান রয়েছেন। তাঁরা বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন এবং এদিন তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
জবানবন্দি দেওয়ার সময় দুই সাক্ষীই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে দায়ী করেন। সাক্ষী আল আমিন পাটোয়ারী তাঁর ছেলে আনোয়ার হোসেনকে হত্যার বিচার দাবি করেন এবং সাক্ষী আবু জুহামুল ইসলাম তাঁকে গুলি করে গুরুতর আহত করার জন্য এই চারজনের বিচারের দাবি জানান।
জবানবন্দিতে আল আমিন পাটোয়ারী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাঁর ছেলে আনোয়ার হোসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় অংশগ্রহণ করেন। ওই দিন বিকেলের দিকে ছেলের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে লোকমুখে জানতে পারেন, তাঁর ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মিরপুর-১০ এলাকার ডা. আজমল হাসপাতালে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, তাঁর ছেলেসহ প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের মরদেহ হাসপাতালের মেঝেতে পড়ে আছে। তখন তিনি নিশ্চিত হন যে তাঁর ছেলে নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে জবানবন্দিতে শিক্ষার্থী আবু জুহামুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হলে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা মিরপুরের বিভিন্ন অলিগলিতে অবস্থান নেয়। তিনি সেদিন ছাত্র-জনতার সঙ্গে একটি গলিতে অবস্থান করছিলেন।
তিনি জানান, আনুমানিক বেলা ১টা ২০ মিনিটের দিকে একটি প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায়। তখন একটি গুলি তাঁর বুকে বিদ্ধ হয়ে হাড় ভেঙে শরীরের অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
সিএ/এমই


