উড়োজাহাজে অগ্নিকাণ্ড ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে পাওয়ার ব্যাংকের ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে জাপান সরকার। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিযুক্ত এসব ডিভাইস থেকে আগুন লাগা কিংবা ধোঁয়া বের হওয়ার ঝুঁকি থাকায় দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় নতুন বিধিনিষেধ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জাপানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে পাওয়ার ব্যাংক বহন ও ব্যবহারের নিয়ম আরও কঠোর করা হবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইসিএও উড়োজাহাজে পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে। সংস্থাটি এখন উড়োজাহাজের ভেতরে এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
জাপানের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে জাপান থেকে ছেড়ে যাওয়া বা জাপানে অবতরণকারী সব এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য হবে। ইতোমধ্যে এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জানানো শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
পরিকল্পিত নীতিমালা অনুযায়ী, ১৬০ ওয়াট-আওয়ারের বেশি ক্ষমতার ব্যাটারি বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে ১৬০ ওয়াট-আওয়ার বা তার কম ক্ষমতার ব্যাটারির ক্ষেত্রে একজন যাত্রী সর্বোচ্চ দুটি ইউনিট সঙ্গে রাখতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি আঘাত বা অতিরিক্ত তাপের কারণে সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে ব্যাটারি থেকে ধোঁয়া বের হওয়া বা আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হয়। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোবাইল ব্যাটারি সম্পর্কিত ১২৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৭। মাত্র চার বছরে এ ধরনের ঘটনার হার প্রায় ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উড়োজাহাজে ব্যাটারি সংক্রান্ত দুর্ঘটনার ঘটনাও সামনে এসেছে। গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান বিমানবন্দরে এয়ার বুসানের একটি উড়োজাহাজে আগুন লাগে, যার পেছনে পাওয়ার ব্যাংককে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এছাড়া গত অক্টোবরে ওকিনাওয়া থেকে টোকিওগামী অল নিপ্পন এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটেও ব্যাটারি থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার ঘটনা ঘটে। এমনকি ট্রেনের ভেতরেও এ ধরনের দুর্ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জাপান সরকার।
সিএ/এমআর


