সিলেটে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের একটি মামলায় ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পর দলীয় পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির এক নেতা। দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। পদত্যাগ করা ওই নেতার নাম রুমান আহমদ। তিনি সিলেট মহানগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রুমান আহমদ সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ আহমদ চৌধুরীর কাছে তার অব্যাহতির আবেদনপত্র জমা দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৭ মার্চ) নগরীর তাঁতিপাড়া এলাকার ‘নাজমা নিবাস’ নামে পরিচিত ৫৬ নম্বর একটি বাসায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই অভিযানে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ১০ জনকে আটক করা হয়। একই সময় এক প্রবাসীসহ দুই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বিএনপি নেতা রুমান আহমদের ছেলে ফারদিন আহমদ (১৮)। তার গ্রেফতারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিলেট বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে ফারদিনের তোলা ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন রুমান আহমদ।
এ অবস্থায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি নিজ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, ছেলের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে রুমান আহমদ অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। তিনি চাননি তার পারিবারিক বিষয় দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলুক। সেই কারণেই তিনি স্বেচ্ছায় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
অব্যাহতিপত্রে রুমান আহমদ উল্লেখ করেন, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ ও নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ঘটনার কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা তিনি চান না। তবে তার দাবি, তার ছেলে ফারদিন নির্দোষ। আদালতে যদি ফারদিন নির্দোষ প্রমাণিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও দলের দায়িত্বে ফেরার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সিএ/এমআর


