মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি তেলের মজুত সংরক্ষণ এবং সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করেছে।
এর পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন যানবাহনের ধরন অনুযায়ী পাম্প থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু অসাধু চক্র জ্বালানি তেল অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই আশঙ্কার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। বিশেষ করে টেকনাফ সীমান্তে বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশি কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
টেকনাফস্থ ২ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি নাফ নদীতে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং চলাচলকারী নৌযানগুলোতেও নিয়মিত তল্লাশি করা হচ্ছে। সন্দেহজনক নৌযান ও ব্যক্তিদের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে বিজিবি বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করছে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষকে অবৈধ কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফ জেটিঘাটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান বলেন, দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষায় বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছে। জ¦ালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ বিভিন্ন সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করছে।
মো. হানিফুর রহমান বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে বিজিবি আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে। ড্রোন, থার্মাল ইমেজার, রাডার, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা, আধুনিক সিগন্যাল সরঞ্জাম, নৌযান এবং ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় বিজিবি পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইন ও সংবিধানের আলোকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।
সিএ/এমআর


