সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন মানুষ শুধু শব্দ দিয়ে নয়, বিভিন্ন ইমোজির মাধ্যমেও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে থাকে। একটি ছোট ইমোজি অনেক সময় দীর্ঘ বাক্যের সমান অর্থ বহন করে। এর মধ্যে অন্যতম পরিচিত একটি প্রতীক হলো ‘থাম্বস ডাউন’ ইমোজি, যা ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ব্যবহার করতে দেখা যায়।
সাধারণভাবে ‘থাম্বস ডাউন’ ইমোজি কোনো বিষয় অপছন্দ করা, অসম্মতি জানানো বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কেউ যদি কোনো পোস্ট, মন্তব্য বা মতামতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন, অনেক সময় কিছু না লিখেই এই ইমোজি ব্যবহার করেন। এতে বোঝানো হয় যে তিনি বিষয়টি পছন্দ করেননি বা এর সঙ্গে একমত নন।
এই প্রতীকের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ধারণা করা হয়, প্রাচীন রোমান যুগে গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াইয়ের সময় দর্শকরা আঙুল নিচের দিকে নামিয়ে পরাজিত যোদ্ধার প্রতি অসন্তোষ বা মৃত্যুদণ্ডের ইঙ্গিত দিতেন। যদিও ইতিহাসবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তবুও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অঙ্গভঙ্গি অপছন্দ বা প্রত্যাখ্যানের প্রতীক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পায়।
বর্তমানে ডিজিটাল যুগে সেই অঙ্গভঙ্গিই ইমোজির রূপে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফেসবুক ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে, চ্যাটে মতামত প্রকাশ করতে বা অনলাইন আলোচনায় নিজের অবস্থান বোঝাতে মানুষ এই ইমোজি ব্যবহার করে থাকেন। অনেক সময় দীর্ঘ মন্তব্য লেখার বদলে একটি ইমোজির মাধ্যমেই ব্যবহারকারীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
তবে সব পরিস্থিতিতে এই ইমোজি ব্যবহার উপযুক্ত নাও হতে পারে। বিশেষ করে সংবেদনশীল আলোচনা, ব্যক্তিগত দুঃখের পোস্ট বা আনুষ্ঠানিক কথোপকথনে এটি ব্যবহার করলে অনেক সময় তা অসম্মানজনক মনে হতে পারে।
ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে ইমোজি অনেকটা অমৌখিক ভাষার মতো কাজ করে। বাস্তব জীবনে মানুষের মুখের অভিব্যক্তি যেমন অনুভূতি প্রকাশ করে, তেমনি অনলাইন জগতে ইমোজি সেই ভূমিকা পালন করে। তাই ‘থাম্বস ডাউন’ ইমোজি শুধু একটি প্রতীক নয়, বরং দ্রুত ও সংক্ষিপ্তভাবে অপছন্দ বা আপত্তি জানানোর একটি মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে।
সিএ/এমআর


