গাইবান্ধার গুরুত্বপূর্ণ গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়কটি বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দক ও অস্থায়ীভাবে দেওয়া ইটের হেয়ারিং বন্ডের কারণে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থেকে মহিমাগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ হিসেবে পরিচিত। দেশের অন্যতম বৃহৎ কোচাশহর হোসিয়ারী পল্লী এবং একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান রংপুর চিনিকলের কারণে প্রতিদিন এই পথে বাস, ট্রাক, ভারী যানবাহন এবং সিএনজি-অটোরিকশাসহ কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে।
তবে বর্তমানে সড়কটির কার্পেটিং উঠে গিয়ে পুরো পথজুড়ে ধুলোবালি ও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে যাতায়াতকারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এবং প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র দেড় বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি সড়কটি সংস্কার করেছিল। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার অবস্থা আবারও খারাপ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বর্ষা মৌসুমে জরুরি মেরামতের নামে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় করে রাস্তার খানাখন্দকগুলোতে ইট বিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে পিচঢালা রাস্তার ওপর অপরিকল্পিতভাবে ইট বসানোর ফলে সড়কটি আরও উঁচুনিচু হয়ে নতুন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করেছে।
মহিমাগঞ্জের বাসিন্দা এবিএস লিটন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাকা রাস্তার মাঝে ইট বিছিয়ে যে অপরিকল্পিত সংস্কার করা হয়েছে, সেটিই এখন আমাদের বড় বিপদ। শিল্প এলাকার এত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথা নেই।’
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। অটোরিকশা চালক রমজান আলী বলেন, ‘রাস্তা খারাপ হওয়ায় প্রতিদিন গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। খানাখন্দকে উল্টে গিয়ে অ্যাক্সিডেন্ট হচ্ছে নিয়মিত। আমাদের রুটি-রুজির পথ এখন মরণফাঁদ।’
সড়কটির বেহাল দশার কথা স্বীকার করে গাইবান্ধা এলজিইডির নবনিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সম্প্রতি এ জেলায় যোগদান করেছি। সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত এটি পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
সিএ/এমআর


