পরিবারের ভাগ্য বদলাতে মাত্র পাঁচ মাস আগে ইরাকে পাড়ি জমান মেহেদি হাসান (২১)। স্বপ্ন ছিল বিদেশে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সুখে-শান্তিতে জীবন কাটাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। গত বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, ইফতারের খাবারে বিষক্রিয়ায় এই মৃত্যু হয়েছে। ইরাকের বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও এক শোকবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।
নিহত মেহেদি হাসান ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের বিসিক শিল্পনগরীসংলগ্ন মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহবুবুল হকের ছেলে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তাঁর মা হোসনে আরা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বারবার বলছেন, ‘আমার ছেলেকে আমি শেষবারের মতো দেখত চাই।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মেহেদির বাবা মাহবুবুল হক প্রায় আট বছর ধরে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে কর্মরত আছেন। গত বছরের অক্টোবরে বাবার হাত ধরেই কাজের সন্ধানে মেহেদি ইরাকে যান। মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) মেহেদি আরও দুজনের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করতে বসেন। ইফতারের পরপরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর সেদিন রাতেই তারা বাসায় ফিরে আসেন।
এরপর ওই রাতেই তারা একসঙ্গে সাহরি খান এবং অন্যদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়েন। তবে পরদিন আর তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরদিন দুপুরে সহকর্মীরা কক্ষে গিয়ে দেখেন তিনজনই মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। নিহত অন্য দুজন হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক (৪৫) ও তাঁর ছেলে মো. সাব্বির (২২)।
নিহতের চাচা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ করে তাঁর বাবার মাধ্যমে মেহেদিকে ইরাকে পাঠানো হয়েছিল। পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে গিয়েই তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। এতে পরিবারসহ স্বজনরা শোকে স্তব্ধ।’
ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মেহেদির মা হোসনে আরা। তিনি বলেন, ‘ঋণ করে প্রবাসে পাঠানো একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আমি একেবারে শেষ হয়ে গেছি। শেষবারের মতো আমার সন্তানের মুখ দেখতে চাই। তাঁর মরদেহ দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা চাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন বলেন, ‘ইরাকে ফেনীর কোনো যুবকের মৃত্যুর বিষয়ে আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না। পরিবারের পক্ষ থেকেও কেউ জানায়নি। বিষয়টি জানা গেলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’
সিএ/এমই


