রোজা অবস্থায় বমি হলে অনেকের মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা যায় যে এতে রোজা ভেঙে যায় কি না। ইসলামি শরিয়তের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বমি হওয়া ইচ্ছাকৃত না অনিচ্ছাকৃত—এই বিষয়টির ওপর রোজার বিধান নির্ভর করে।
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করে, তাহলে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং তাকে পরবর্তীতে সেই রোজার কাজা আদায় করতে হবে। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে অল্প বা বেশি বমি হলে রোজা ভাঙে না এবং এ ক্ষেত্রে কাজা আদায়ও করতে হয় না।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, অনিচ্ছাকৃত বমি হলে তার কাজা আদায় করতে হবে না। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, সে যেন সেই রোজার কাজা আদায় করে নেয়। সুনানে তিরমিজি: ৭২০
অনেক সময় দেখা যায়, অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি হলে কেউ কেউ ভুল ধারণা থেকে মনে করেন যে তার রোজা ভেঙে গেছে। এরপর তিনি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু খেয়ে ফেলেন, তাহলে তার রোজা সত্যিই ভেঙে যাবে এবং তাকে সেই রোজার কাজা আদায় করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কাফফারা ওয়াজিব হবে না।
ইসলামে কাজা অর্থ হলো একটি রোজা ভেঙে গেলে তার পরিবর্তে পরবর্তীতে আরেকটি রোজা রাখা। আর কাফফারা আদায়ের তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো একজন দাস মুক্ত করা, দ্বিতীয়টি ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা তৃপ্তিসহকারে আহার করানো এবং তৃতীয়টি ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজা রাখা।
রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা বা দিনের বেলায় যৌনমিলন করলে রোজা ভেঙে যায় এবং সে ক্ষেত্রে কাজার পাশাপাশি কাফফারাও আদায় করতে হয়।
সিএ/এমআর


