বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে আবদুল জব্বার (৫৩) নামের এক বাংলাদেশি কাঠুরিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত আবদুল জব্বার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়া এলাকার বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন কাঠুরিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইনছড়া গ্রামটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শুক্রবার বিকেলে ওই এলাকার সাত থেকে আটজন কাঠুরিয়া বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কাঠ কাটতে যান। এ সময় শূন্যরেখার কাছাকাছি একটি স্থানে হঠাৎ মাইন বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আবদুল জব্বার গুরুতর আহত হন।
বিস্ফোরণের ফলে তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল বাতেন মৃধা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহত ব্যক্তিকে প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইনের কারণে প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অন্তত ৬৩ জন মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৪৮ জন পা হারিয়েছেন। অন্যরা বিভিন্ন ধরনের অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এই সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে ১০ জন এবং ২০২৫ সালে ১৮ জন মাইন বিস্ফোরণে হতাহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
সিএ/এমই


