বরগুনা সদর উপজেলায় নিজ ঘর থেকে এক গৃহবধূর থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লোহার তৈরি শাবল দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার ১০ নম্বর নলটোনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আগাপদ্মা দিল মাহমুদ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত গৃহবধূর নাম আলম তাজ (৪৪)। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা আবুল হাওলাদারের স্ত্রী। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় আলম তাজ বাড়িতে একাই ছিলেন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে লোহার তৈরি শাবল দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। একপর্যায়ে উপর্যুপরি আঘাতে তাঁর মুখমণ্ডল থেঁতলে দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নাঈম হোসেন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, খবর পেয়ে তিনি শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ইফতারের পর ওই বাড়িতে গিয়ে আলম তাজের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর ভাষ্য, পরিবারটির সঙ্গে স্থানীয় কারও কোনো বিরোধের কথা জানা নেই। এমনকি নিহত নারীর শরীরে থাকা স্বর্ণালংকারও অক্ষত ছিল। নিহত নারীর ছেলেরা বরগুনা শহরে ব্যবসা করেন বলেও তিনি জানান।
চম্পা নামে নিহত আলম তাজের এক স্বজন বলেন, তিনি প্রথমে শুনেছিলেন ওই বাড়িতে আগুন লেগেছে। পরে আশপাশের মানুষ একত্র হয়ে এসে দেখেন ঘরের বারান্দায় আলম তাজের মরদেহ পড়ে আছে।
নিহতের মা ছায়াতন বেগম বলেন, ‘আমি মেয়ের বাড়িতে থাকি না। কী কারণে কী হয়েছে আমি তা কিছুই জানি না। জামাইয়ের অসুস্থতার কথা জানিয়ে আমাকে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু এসে দেখি আমার মেয়েকে কারা যেন মেরে ফেলেছে।’
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল আলিম জানান, ঘটনার পর শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিহত নারীর স্বামী আবুল হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বরগুনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সালাহ্উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পর তিনি পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি লোহার তৈরি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে গৃহবধূর মুখমণ্ডল থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সিএ/এমই


