পঞ্চগড়ে একজন কলেজ অধ্যক্ষের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কলেজ অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহ ও তাঁর ভাইয়ের কাছে এক বিঘা জমি বর্গা চেয়ে না পাওয়ায় নুরুল্লাহ সৌদি আরবে ওমরাহ পালনে গেলে প্রতিবেশী মো. আলম ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।
শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। পুলিশ সুপারের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত দুইটার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় মফিজার রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহর বাড়িতে ডাকাতি ঘটে। নুরুল্লাহ বাড়িতে না থাকায় মুখোশধারী ডাকাতরা জানালা ভেঙে প্রবেশ করে তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় তারা নগদ টাকা, মুঠোফোন এবং স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে পঞ্চগড় সদর থানায় ডাকাতির মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) দায়িত্ব নেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে ডিবি পুলিশ। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন মজিবর রহমান (৩৫), রমজান আলী (৩০), সাদ্দাম হোসেন (৩০), মো. আশিক (১৯) ও মো. জুবায়ের (১৯)। তাঁদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, লুট করা একটি স্মার্টফোন, একটি সিম কার্ড, একটি শাবল, একটি ছোট চাকু এবং দুটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করা হয় ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী মো. আলমকে (৩৭)। তিনি একই ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর মো. আলম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছেন, তিনি খুবই অভাবী। ফসলের জন্য প্রতিবেশী অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহ ও তাঁর ভাইয়ের কাছে এক বিঘা জমি বর্গা চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা জমি অন্যজনের মাধ্যমে আবাদ করায় পরে দেওয়ার কথা বলেন।
মো. আলম জানিয়েছিলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি নুরুল্লাহ সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের জন্য বাড়িতে না থাকায় ডাকাতির পরিকল্পনা মাথায় আসে। এরপর তিনি ডাকাত চক্রের সদস্য কামরুলকে বিষয়টি জানান, যা নিয়ে লোকজন জোগাড় করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই দিন আগে মুখোশ পরে ডাকাতরা বাড়িতে ঢুকে লুটপাট করে। লুট করা টাকার মধ্যে প্রত্যেকে ছয় হাজার টাকা ভাগ করে নেন। এছাড়া ছোট-বড় ১৯টি স্বর্ণালংকার তাদের সহযোগী মনির ও কামরুলকে বিক্রি করতে দেন।
পুলিশ সুপার জানান, কামরুল ও মনিরকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের অভিযান এখনও চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


