গাজীপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মাহাবুব হোসেন (১৪) হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ছাব্বির আহম্মেদ (১৯) নামের এক তরুণ। তিনি জানিয়েছেন, গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় মাহাবুবকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পরে মরদেহে আগুন লাগিয়ে দেন।
শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানান ছাব্বির আহম্মেদ। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তুলন্দর গ্রামের আবদুল বারেকের ছেলে এবং গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নিহত মাহাবুব হোসেন, যিনি রনি নামেও পরিচিত, গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকার খুরশীদিয়া মারকাজুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে। তিনি সোহাস মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মাহাবুব তারাবিহর নামাজ পড়তে বের হন। এরপর বাসায় ফেরার পথে তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে ভবানীপুর এলাকার একটি জঙ্গলের ভেতর আগুনে পোড়া অবস্থায় এক কিশোরের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মাহাবুব হোসেনের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় মাহাবুবের দাদা তারা মিয়া জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি থানা–পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলা তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআই সূত্র জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে জয়দেবপুরের ভবানীপুর এলাকা থেকে ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে ছাব্বির জানান, ঘটনার রাতে তিনি জঙ্গলের ভেতরে গাঁজা সেবন করছিলেন। এ সময় মাদ্রাসাছাত্র মাহাবুব সেখানে এসে তাঁকে দেখে ফেলেন এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি মাহাবুবকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে গলা চেপে ধরে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি গোপন করতে মরদেহে আগুন লাগিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সোর্স এবং পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
সিএ/এমই


