মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের চুক্তি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর পিছু হটছে ওপেনএআই। নাগরিকদের ওপর নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র তৈরিতে এআই ব্যবহারের আশঙ্কা ঘিরে তৈরি বিতর্কের পর পেন্টাগনের সঙ্গে করা চুক্তিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটি প্রকাশের পরপরই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ব্যবহারকারীদের একটি অংশ একে সুযোগসন্ধানী ও দায়সারা বলে সমালোচনা করেন। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোপন কার্যক্রমে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, চুক্তিতে নতুন কিছু শর্ত যোগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মার্কিন নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালানোর কাজে ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা।
শুক্রবার ওপেনএআই ও পেন্টাগনের মধ্যে চুক্তির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরোধ তৈরি হওয়ার পরই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।
পেন্টাগনের সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের বিরোধের পেছনে ছিল গণ নজরদারি ও অটোনমাস মারণাস্ত্রে তাদের এআই চ্যাটবট ক্লড ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ। এই ঘটনাকে ঘিরে যুদ্ধক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের নৈতিকতা এবং সরকার ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর হাতে কতটা ক্ষমতা থাকা উচিত তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে ওপেনএআই দাবি করেছিল, পেন্টাগনের সঙ্গে তাদের চুক্তিতে অন্য অনেক চুক্তির তুলনায় বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে ব্যবহারকারীদের উদ্বেগের পর কোম্পানিটি আরও কঠোর শর্ত যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় অল্টম্যান বলেন, চুক্তিতে সংশোধন এনে নিশ্চিত করা হবে যাতে ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মার্কিন নাগরিকদের ওপর অভ্যন্তরীণ নজরদারি চালানো না হয়।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, এনএসএ-এর মতো গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও বিশেষ অনুমতি বা চুক্তিতে পরিবর্তন ছাড়া ওপেনএআইয়ের সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবে না।
অল্টম্যান স্বীকার করেন, চুক্তিটি প্রকাশের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করাটা তাদের ভুল ছিল। তিনি বলেন, “এসব বিষয় খুব জটিল ও এখানে স্পষ্টভাবে যোগাযোগের প্রয়োজন ছিল। আমরা আসলে পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং আরও খারাপ কোনো পরিণতি এড়াতে চেয়েছিলাম। তবে আমার ধারণা তাড়াহুড়োর কারণে বিষয়টি কেবল সুযোগসন্ধানী ও দায়সারা মনে হয়েছে।”
পেন্টাগনের সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ব্যবহারকারীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে ওপেনএআই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার চ্যাটজিপিটি মোবাইল অ্যাপ আনইনস্টল বা মুছে ফেলার হার এক লাফে প্রায় ২৯৫ শতাংশ বেড়ে যায়, যেখানে সাধারণ সময়ে এই হার প্রায় ৯ শতাংশ থাকে।
এদিকে এই সুযোগে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের ক্লড অ্যাপ অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠে আসে এবং কয়েক দিন ধরে সেই অবস্থান ধরে রাখে।
এর আগে অ্যানথ্রপিক তাদের নীতিগত অবস্থান থেকে সরে না আসায় ট্রাম্প প্রশাসন ক্লডকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির নীতি অনুযায়ী তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অটোনমাস মারণাস্ত্র তৈরি করা যাবে না।
তবে ওই নিষেধাজ্ঞার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতে ক্লড ব্যবহারের খবর সামনে আসে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে লেনদেন বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সিএ/এমআর


